আদালত থেকে আসামির পলায়ন: কনস্টেবল বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণ থেকে হাতকড়া খুলে বিচারাধীন আসামি শরিফুল ইসলামের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও দায়িত্বে অবহেলা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালতে হাজিরা শেষে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার পথে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান শরিফুল। ঘটনার পর আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং তাঁকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান শুরু হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য কারাগার থেকে শরিফুল ইসলামকে আদালতে আনা হয়েছিল। তবে সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় ওই দিন সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। পরে আদালত থেকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের কনস্টেবল আব্দুল আলিমের দায়িত্বে ছিলেন শরিফুল। এ সময় কৌশলে হাতকড়া খুলে আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনার পরপরই দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কনস্টেবল আব্দুল আলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি কীভাবে একজন বিচারাধীন আসামি হাতকড়া খুলে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে গেলেন এবং এতে কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পুলিশ সদরদপ্তরের মিডিয়া বিভাগের নতুন এআইজি কামারুম মুনিরা
পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়া শরিফুলের বিরুদ্ধে এর আগেও আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। গত ২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের মারধর করে হাতকড়া খুলে পালিয়েছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় তৎকালীন হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।
পরবর্তীতে পুনরায় গ্রেপ্তার হওয়া শরিফুলকে সেই মামলারই সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়েছিল। তবে দ্বিতীয়বারের মতো পুলিশের হেফাজত থেকে তাঁর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আসামি পরিবহন ও দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পলাতক শরিফুল ইসলামকে পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার সত্যতা মিললে সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
