রিকশায় নগর ভবনে এলেন নারী প্রশাসক শিরিন
এম.কে. রানা, বরিশাল থেকে
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসেই রিকশায় করে নগর ভবনে এলেন অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি একেবারেই ব্যতিক্রমীভাবে নিজ কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় করে নগর ভবনে পৌঁছান, যা উপস্থিত সবার মধ্যে কৌতূহল ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সরলভাবে কর্মস্থলে পৌঁছালেও নগর ভবনের প্রবেশদ্বারে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় এক ভিন্নধর্মী দৃশ্যের অবতারণা ঘটে—নগর ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেই কর্মকর্তাদের টানানো শুভেচ্ছা ব্যানার নিজ হাতে খুলে ফেলেন তিনি। তার এই আচরণে দায়িত্ব পালনে সরলতা ও আনুষ্ঠানিকতা পরিহারের বার্তা স্পষ্ট বলে মনে করেন নগরভবনের কর্মকর্তা সহ উপস্থিত সকলে।
প্রথম কর্মদিবসে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রফিকুল বারী, সচিব রুম্পা শিকদার, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও সাবেক কাউন্সিলররা।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রশাসক শিরিন বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার নারীবান্ধব বলেই তাকে বরিশাল নগরের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম নারী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, আজ ২৫ মার্চ, যা আমাদের ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়—গণহত্যা দিবস। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে বাংলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দেশ স্বাধীন হয়।
পূর্ববর্তী প্রশাসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় আগের প্রশাসক (বিভাগীয় কমিশনার) কেবল রুটিন দায়িত্ব পালন করেছেন, জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা ছিল না। তবে তিনি রাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত সরকারের প্রতিনিধি হওয়ায় জনগণের প্রতি তার দায়বদ্ধতা রয়েছে।
সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, অতীতের ভুল বা কে কী করেছেন তা না দেখে সামনে কীভাবে নাগরিকদের সঠিক ও উন্নত সেবা দেওয়া যায় সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
