ঝালকাঠির নলছিটি
সরকারিভাবে বোরো ধান ক্রয়ে উৎকোচ ও জালিয়াতির অভিযোগ
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
ফাইল ছবি
ঝালকাঠির নলছিটিতে সরকারিভাবে বোরো ধান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
খাদ্য বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকেরা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ তিন টন পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারেন। তবে নলছিটিতে লটারিতে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার ৬৫৯ জন কৃষকের আবেদনের বিপরীতে ২২৯ জন কৃষককে লটারির মাধ্যমে মনোনীত করা হয়। কিন্তু তালিকা প্রকাশে নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একাধিক নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি সরকারি চাকরিজীবীর স্ত্রী, শিক্ষক ও একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও তালিকায় রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য গুদামের কিছু অসাধু কর্মচারী কৃষকদের কার্ড ব্যবহার করে নিজেরাই ধান সরবরাহ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে কৃষকদের স্বাক্ষর জালিয়াতিরও অভিযোগ উঠেছে।
প্রান্তিক কৃষকদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা সাধারণ কৃষকেরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। ধানের মান নিয়ে আপত্তি তুলে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে বাধ্য হয়ে তাঁরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান বিক্রি করছেন।
তবে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ধানের গুণগতমান যাচাইয়ের নামে নগদ অর্থ নেওয়ার তথ্য সঠিক নয়। তবে শ্রমিকদের জন্য কিছু বকশিস নেওয়া হয়।”
ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
