থানায় ঢুকে ওসিসহ ৮ পুলিশকে মারধর, জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসিসহ আট পুলিশ সদস্যকে পেটানোর ঘটনায় মিজানুর রহমান মিজান (৩৫) নামে এক জামায়াতে ইসলামী নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খান।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ অভিযানে পৌর শহরের গৃধারীপুর গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মিজানুর রহমান মিজান পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী বিভাগের বর্তমান সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গৃধারীপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মিজান পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের সাবেক আমির ও ১৩/১৪ সালের পলাশবাড়ী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।
গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশসহ কয়েকজন বিবদমান একটি দোকানের বিষয়ে অভিযোগপত্র নিয়ে পলাশবাড়ী থানায় যান। এ নিয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক হয়।
পরে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জামায়াত নেতা পলাশ থানার ওসিকে শহরের কালিবাড়ী বাজারে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত বিবদমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করতে বলেন এবং চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি ইউএনও-এসিল্যান্ডের এখতিয়ারভুক্ত, ওসি এটা বন্ধ করতে পারবেন না জানালে ওই নেতা ও তার সঙ্গীরা ওসির ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে ওসিকে মারধর করা হয়। এসময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়, এতে এক নারী কনস্টেবলসহ পুলিশের আট সদস্য আহত হন।
এ ঘটনায় পলাশবাড়ী থানার আহত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রুহুল আমিন বাদী হয়ে ২৬ মার্চ (পরদিন) নামীয় নয়জনসহ অজ্ঞাত ১২/১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক পলাশ আহমেদকে (৩৫)। অপর আসামিরা হলেন- একই গ্রামের মাহফুজ রহমান সিনহা (২৮), তৌহিদুল ইসলাম কানন (৩৩), মেহেদী হাসান (৩৫), সাদ্দাম হোসেন (৩০), শাওন (৩৫), বৈরীহরিনামারী গ্রামের গোলজার রহমান (৩২), পূর্ব গোপিনাথপুর গ্রামের সবুজ মিয়া (৩২) ও জামালপুর গ্রামের আব্দুল মালেক (৩৭)।
এদিকে ঘটনার দিনই ঘটনাস্থল থেকে তৌহিদুল ইসলাম কাঁকন (৩৫) নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে এ মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তৌহিদুল ইসলাম দৈনিক গণকণ্ঠের পলাশবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে এ মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খান বলেন, থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে জামায়াত নেতা মিজানকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
