ট্রাইব্যুনালে আযমী
গুমের ৭ বছর পর অসুস্থ হয়ে পড়লে এসি লাগানো হয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
ছবি: ফাইল ফটো
গুমের প্রায় সাত বছর পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাখা কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের জেরায় তিনি এ তথ্য দেন। বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
জেরার সময় আযমী জানান, তাকে একটি ২১ ফুট বাই ১৭ ফুট আকারের কক্ষে দীর্ঘ সময় বন্দি রাখা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ৬ জুন তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ৮ জুন চিকিৎসকের পরামর্শে কক্ষে এসি স্থাপন করা হয়। এর আগে প্রায় সাত বছর তিনি এসিবিহীন অবস্থায় ছিলেন। তিনি বলেন, “তারা বলত, আপনাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।”
আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুর জেরায় তিনি আরও জানান, চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করেছিলেন, তবে সেটি পরবর্তীতে খারিজ হয়ে যায়।
গুম থেকে মুক্তির পর ২০২৪ সালের আগস্টের শেষ দিকে কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে জবানবন্দি দেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গুমের ঘটনায় কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি বলেও দাবি করেন আযমী, যদিও আসামিপক্ষ তা নিয়ে ভিন্ন দাবি তোলে।
চাকরিজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুটি ব্রিগেডে দায়িত্ব পালন করেছেন ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টের ৩০৯ পদাতিক ব্রিগেড এবং রংপুরের বীর উত্তম শহীদ মাহবুব সেনানিবাসে ১৬ পদাতিক ব্রিগেড।
উল্লেখ্য, এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৩ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন মিজানুল ইসলামসহ একাধিক আইনজীবী।
জেরা শেষ না হওয়ায় শুনানি পরবর্তী সময় পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
