×

শিক্ষা

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে ৭ নভেম্বরের ইতিহাস

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ১০:৫৮ এএম

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে ৭ নভেম্বরের ইতিহাস

ছবি : সংগৃহীত

আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিমার্জন ও পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) । নতুন পরিবর্তনের আওতায় চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বীরত্বগাথা নিয়ে আলাদা অধ্যায়।

এ ছাড়া চতুর্থ শ্রেণিতে শারীরিক শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষা ও কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা নামে নতুন তিনটি বই বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকেও এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পাঠ্যবইয়ে। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি ক্লাসে সাতটি খেলাধুলা ও দেশীয় সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা বই থাকবে।

পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো যুগোপযোগী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সব বইয়েই তথ্য, শব্দ ও ভাষাগত নানা পরিমার্জনের পাশাপাশি প্রচ্ছদ, ছবি, মানচিত্র ও অলংকরণে আনা হবে নান্দনিক পরিবর্তন। জুনের মধ্যেই এই কাজ শেষ করতে চায় এনসিটিবি। এবার সংস্থাটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক পর্যালোচনা ও পরিমার্জনের জন্য গত ৪ থেকে ৭ মে পর্যন্ত বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে টানা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্ত ছিলেন এ এন এম এহছানুল হক মিলন। কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, এস এম হাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ নূর-ই-আলম সিদ্দিকী ও শাহ শামীম আহমদের তত্ত্বাবধানে দেশের ২৫৭ শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অংশ নেন।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষক জানান, বর্তমান পাঠ্যবইয়ের ভুলত্রুটি ও ভাষাগত বিষয় নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তারা বলেন, আগের বছরের তুলনায় এবার আমলাদের উপস্থিতি কম ছিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট দায়িত্বে থাকায় পরিমার্জনের কাজ আরো কার্যকর হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আওয়ামী লীগ আমলের বইয়ে বড় ধরনের সংশোধন হওয়ায় এবার তুলনামূলক কম পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে ইতিহাস এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে বড় পরিবর্তন আসছে। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে নতুন অধ্যায় যোগ করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন : হামে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর, ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে ১ নম্বর সেক্টরে নেতৃত্ব দেন। আওয়ামী লীগ আমলে তার এই ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলেও দাবি করা হয়।

এ ছাড়া ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সিপাহি-জনতার ওই বিপ্লবের মাধ্যমে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান এবং পরে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।

সরকার ইতোমধ্যে ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস ঘোষণা করেছে। এবার সেই দিবসের গুরুত্বও পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হচ্ছে।এ ছাড়া নব্বইয়ের গণআন্দোলনে খালেদা জিয়ার অবদানও নতুনভাবে তুলে ধরা হবে, যা আগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না।

এনসিটিবির এক কর্মকর্তা জানান, নবম শ্রেণি থেকে মূলত মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইতিহাস পড়ে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের সামনে এসব ইতিহাস তুলে ধরতে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

ইতিহাস বই সংশোধনের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ইতিহাসের বয়ান হবে নির্মোহ। এখানে কাউকে বড় বা ছোট করে দেখানো হবে না। যার যে অবদান আছে, সেটিই তুলে ধরা হবে।

খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকেও এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকার শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি চালু করেছে। এর অংশ হিসেবে চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি ক্লাসে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয়ে আলাদা বই থাকবে।

এসব বইয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, কারাতে ও দাবা নিয়ে আলাদা অধ্যায় থাকবে। দেশীয় সংস্কৃতিও বইয়ে স্থান পাবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব বিষয়ের মূল্যায়ন হবে ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে।

নতুন শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘শারীরিক শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ জয়’ ও ‘কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা’ নামে আরো দুটি বই যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ‘লার্নিং উইথ জয়’ বইটির মূল্যায়নও ব্যবহারিক হবে এবং এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে।

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বই পড়ানো হচ্ছে, তা ২০১২ সালের পাঠ্যক্রমভিত্তিক হওয়ায় প্রযুক্তিগতভাবে অনেকটাই পুরোনো হয়ে গেছে। তাই এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, হার্ডওয়্যার ও সাইবার নিরাপত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক নানা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বাংলা, বিজ্ঞান, পৌরনীতি ও নাগরিকতাসহ বিভিন্ন বইয়ের বিষয়বস্তুতে পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রচ্ছদ, ছবি, মানচিত্র, লেখার বিন্যাস ও অলংকরণেও নান্দনিকতা আনা হবে। শিক্ষার্থীদের বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছবি, বাণী ও প্রবাদ নির্বাচনেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পাঠ্যবই পরিমার্জনের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান বইগুলোই আগামী বছর শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে। আমরা তথ্যগত, বানান ও ভাষাগত ভুলগুলো গুরুত্বের সঙ্গে সংশোধন করছি।

তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী। অন্যদিকে সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক এ কে এম মাসুদুল হক বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা মাথায় রেখেই বইগুলো পরিমার্জন করা হচ্ছে। জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। আগামী ২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মন্ত্রীর আসার খবরে দৌড়ঝাঁপ, তবুও লুকানো গেল না অনিয়ম

মন্ত্রীর আসার খবরে দৌড়ঝাঁপ, তবুও লুকানো গেল না অনিয়ম

বিশ্বকাপে না খেলার কারণ খুঁজতে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি গঠন

বিশ্বকাপে না খেলার কারণ খুঁজতে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি গঠন

ঈদে পোশাক কারখানার ছুটি নিয়ে যে সিদ্ধান্ত

ঈদে পোশাক কারখানার ছুটি নিয়ে যে সিদ্ধান্ত

ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App