হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। এই পরিস্থিতির মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন, আর বাকি ৩ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণ বাড়ার বড় কারণগুলোর একটি হলো হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত আইসোলেশন বা পৃথক রাখার ব্যবস্থার অভাব। শয্যা সংকটের কারণে আক্রান্ত শিশুদের অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি রাখা হচ্ছে, ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর আইসোলেশন নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ২৯ হাজার ৫৫৯ জন। এর মধ্যে ৪ হাজার ২৩১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ১৯ হাজার ৭০৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১৬ হাজার ৫২৭ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৯৮ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ২১৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসার ফলে এই প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হচ্ছে। শিশুদের জ্বর বা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
