যুদ্ধবিরতি আরও দুই সপ্তাহ বাড়াতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
আগামী সপ্তাহে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে । ছবি- সংগৃহীত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা আরও দীর্ঘায়িত করতে শুরু হয়েছে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা। আগামী সপ্তাহে বর্তমান বিরতির সময়সীমা শেষ হতে চলায় দুই দেশই এখন পরোক্ষ আলোচনায় বসছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর অনুরোধ না জানালেও ওয়াশিংটন এই আলোচনার বিষয়ে গভীরভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে। শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর আগের প্রচেষ্টাগুলো সফল না হলেও, বর্তমান আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে হোয়াইট হাউস ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে এবং দ্রুতই আলোচনার পরবর্তী ধাপ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই সংকট নিরসনে বর্তমানে ‘সেতুবন্ধন’ হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছে। ওয়াশিংটনের বিশেষ বার্তা ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় দফার আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে এই প্রতিনিধিদল। একই সময়ে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সমর্থন আদায়ে মধ্যপ্রাচ্য সফরে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী হলেও ইরানের পক্ষ থেকে একটি কঠিন শর্ত দেওয়া হয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, পরবর্তী দফার আলোচনার আগে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, তিনি এখনো এই যুদ্ধবিরতির বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, অবরোধ প্রত্যাহার করা না হলে তারা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক পথ বন্ধ করে দিতে পারে। এমন চরম উত্তেজনার মধ্যেই শান্তি ফেরানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
