বেইজিং ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা
ট্রাম্পের পর এবার চীনে যাচ্ছেন পুতিন ও শাহবাজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
ফাইল ছবি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ শিগগিরই চীন সফরে যাচ্ছেন। এ খবর জানিয়েছে গ্লোবাল টাইমস। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে চীনকে ঘিরে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফর বাড়ছে। বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও উন্নয়ন সহযোগিতায় বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণেই বিভিন্ন দেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
রুশ সংবাদমাধ্যম তাস জানিয়েছে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার বলেছেন, পুতিনের চীন সফরের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। খুব শিগগিরই সফরের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
এর আগে, এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, চীন ও রাশিয়ার মতো দেশের সহযোগিতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি উল্লেখ করেন, চীন বর্তমানে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে উচ্চপ্রযুক্তিভিত্তিক খাতে সহযোগিতাও বাড়ছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গো জাইকুন বলেন, চীন ও রাশিয়া নতুন যুগের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদার। তিনি জানান, চলতি বছর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের ৩০ বছর পূর্তি, পাশাপাশি প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব সহযোগিতা চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে।
এপ্রিলে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভারভ চীন সফর করেন। সে সময় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকে তিনি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও নীতিগত সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আগামী ২৩ মে থেকে তিন দিনের সফরে চীন যাবেন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক অনুষ্ঠানে ইসহাক দার বলেন, পাকিস্তান ও চীন ডিজিটাল যুগে অংশীদারত্বের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। তার ভাষায়, পাকিস্তান-চীন সম্পর্ক সাধারণ কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আস্থার সম্পর্ক।
তিনি বলেন, কারাকোরাম মহাসড়ক থেকে শুরু করে চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি)—সবই দুই দেশের সহযোগিতার প্রতীক, যা পাকিস্তানের জ্বালানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে।
এর আগে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এপ্রিলের শেষ দিকে চীন সফর করেন। ওই সফরে তিনি হুনান ও হাইনান প্রদেশ পরিদর্শন করেন।
চীনা বিশ্লেষকদের মতে, চীন-পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতায় চীনের ভূমিকা- এসব কারণে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে চীন নিজেকে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন সহযোগিতা ও ‘উইন-উইন’ কূটনীতির কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরছে। এ কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন বেইজিংয়ের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
