সাপোজিটরি ব্যবহার করলে রোজা ভাঙবে?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রোজা রাখা অবস্থায় তীব্র জ্বর এলে, জ্বর কমাতে মলদ্বারে সাপোজিটরি ব্যবহার করা যাবে কি? জ্বরের অবস্থায় সাপোজিটরি ব্যবহার করলে কি রোজা ভেঙে যাবে?
রমজান মাসের দিনের বেলায় রোজা রেখে সাপোজিটরি ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাওয়া এবং ভেঙে না যাওয়া নিয়ে আলেমদের মধ্যে দুই ধরনের মতামত পাওয়া যায়। কারও মতে রোজা ভেঙে যাবে, আবার কারও মতে রোজা ভাঙবে না।
> কেউ কেউ বলেন, রোজা ভঙের কারণ হচ্ছে, স্বাভাবিক প্রবেশপথ দিয়ে পেটে বা মস্তিষ্কে কোনও কিছু প্রবেশ করানো। মলদ্বার এক্ষেত্রে স্বাভাবিক পথের অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে শরীরের ভেতর ওষুধ প্রবেশ করানো হলে রোজা ভেঙে যাবে। তাই সেদিনের রোজাটি কাজা করে নিতে হবে। তবে এ কারণে কোনো কাফফারা আদায় করতে হবে না। (খিজানাতুল আকমাল ১/২৯৯, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৩, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭৮, বায়হাকি ৮৫১২, ফাতহুল বারি, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-২০৭, হেদায়া, খণ্ড-১ পৃষ্ঠা-২২০)
> অনেকের মতে, ডুশ বা সাপোজিটরি ব্যবহারের পর এটি পুনরায় পায়ুপথে বেরিয়ে আসে এবং এতে খাদ্য খাওয়ার কোনো উদ্দেশ্যও সাধিত হয় না। তাই এর দ্বারা রোজা ভাঙে না। তবুও সতর্কতামূলক পরবর্তী সময়ে রোজা কাজা আদায় করা উত্তম হবে। (আল ফিকহুল ইসলামি আদ দুওয়ালি)
> আবার কেউ কেউ বলেন, রমজানের দিনের বেলায় সাপোজিটরি ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। অনুরূপভাবে রোজাদারকে যদি ডুশ দিতে হয় সেটাও রোজা ভঙ্গকারী নয়। কেননা এটার ব্যবহার রোজা ভঙ্গকারী হওয়ার পক্ষে কোনো দলিল নেই। তাছাড়া এগুলো পানাহার নয় কিংবা পানাহারের পর্যায়ভুক্তও নয়।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ‘আল-ইখতিয়ারাত’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা-১৯৩) বলেন— সুরমা লাগানো কিংবা ইনজেকশন (উদ্দেশ্য হচ্ছে ডুশ) রোজা ভঙ্গ করবে না।... এটি কিছু কিছু আলেমের অভিমত।
শাইখ উছাইমীন (রহঃ) ‘আল-শারহুল মুমতি’ গ্রন্থে (৬/৩৮১) বলেন— এ মাসয়ালায় শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার অভিমতই অগ্রগণ্য। অর্থাৎ ডুশ গ্রহণ করা রোজা ভঙ্গকারী নয়।
রোজা রমজান ইসলাম
