ইরান যুদ্ধ ‘শেষ’, জানাল ট্রাম্প প্রশাসন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ ইতোমধ্যেই ‘শেষ হয়ে গেছে’, এমন দাবি করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তাদের যুক্তি, গত এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে হোয়াইট হাউস আসলে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতে চাইছে। খবর এপিল।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মার্কিন সিনেটে শুনানির সময় একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কার্যত যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছে। এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতে প্রশাসন দাবি করছে, ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ অনুযায়ী ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের যে অনুমতির প্রয়োজন ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আর প্রযোজ্য নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আইনের ভাষায় বলতে গেলে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া শত্রুতার অবসান ঘটেছে।’ তিনি আরো জানান, ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর থেকে মার্কিন বাহিনী ও ইরানের মধ্যে আর কোনো গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেনি।
আরো পড়ুন : আলোচনার টেবিলে আসতেই হবে ইরানকে: ফ্রেডরিক ম্যার্ৎস
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের আইন অনুযায়ী, কোনো দেশে সামরিক অভিযান শুরুর ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে অথবা অভিযান বন্ধ করতে হয়। শুক্রবার (১ মে) ছিল সেই সময়সীমার শেষ দিন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় সেই সময়সীমা এখন স্থগিত রয়েছে।
যদিও প্রশাসন যুদ্ধ সমাপ্তির কথা বলছে, বাস্তব পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, ইরানি তেলবাহী জাহাজের চলাচল ঠেকাতে মার্কিন নৌবাহিনী সেখানে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই ব্যাখ্যাকে ‘নজিরবিহীন’ ও ‘বেআইনি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা। মেইন অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স বলেন, ‘কংগ্রেসের অনুমোদনের সময়সীমা কোনো পরামর্শ নয়, এটি একটি আইনি বাধ্যবাধকতা। ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক অভিযানের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কৌশল থাকা জরুরি।’
সিনেটর টিম কেইনও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর যুক্তিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। ব্রেনান সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন ইয়ান এব্রাইট বলেন, ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশনে কোথাও বলা নেই যে যুদ্ধবিরতির সময় ৬০ দিনের সময়সীমা স্থগিত রাখা যাবে।’
এদিকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক কর্মকর্তা রিচার্ড গোল্ডবার্গ সংকট মোকাবিলায় নতুন নামে সামরিক অভিযান চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি ‘অপারেশন এপিক প্যাসেজ’ নামে একটি নতুন অভিযানের প্রস্তাব দেন, যা হবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র ধারাবাহিকতা।
তার মতে, একে ‘আত্মরক্ষামূলক মিশন’ হিসেবে চালালে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই হরমুজ প্রণালিতে সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে।
