×

জাতীয়

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

যে কারণে সাড়া দিচ্ছে না ছাত্র সংগঠনগুলো

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:১০ পিএম

যে কারণে সাড়া দিচ্ছে না ছাত্র সংগঠনগুলো

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের সূতিকাগার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তাদের নেতৃত্বে ও আন্দোলনে ৫ আগস্ট দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের যবনিকা ঘটে। পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের। এরপর আরো জোরালো হয় তাদের কার্যক্রম। অন্য রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে গড়ে উঠে লিয়াজোঁ সম্পর্ক। কিন্তু বর্তমানে তাদের ডাকে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের সাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠে সংগঠনটির নেতাদের বিরুদ্ধে। ফলে তাদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে ছাত্র সংগঠনগুলোর।

অভিযোগ আছে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ৮ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করে। ১২ আগস্ট এই কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সভায় ৩৪টি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও অভ্যুত্থানের প্রায় চার মাসেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজে শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার যে প্রতিজ্ঞা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করেছে, সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে। রাষ্ট্রীয় যে কোনো কাজে শুধু তারাই থাকে। অন্য ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব একেবারেই শূন্যের পর্যায়ে।

সর্বশেষ ৩ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছাত্রদের সাক্ষাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ছাড়া অন্য কোনো ছাত্র সংগঠনের উপস্থিতি ছিল না। নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতি তাদের মধ্যে আরো দূরত্ব তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয় বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

দপ্তর সেল সম্পাদক জাহিদ আহসানের সই করা এই বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বুধবারের সভায় রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন কিংবা অভ্যুত্থানকারী সংগঠন হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বরং গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট বজায় রাখতে সরকারের ভূমিকার ব্যাপারে পরামর্শ নেয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। জাতীয় ঐকমত্য গঠনের যে ডাক প্রধান উপদেষ্টা দিয়েছেন, গতকালের মতবিনিময় সভায় তার কোনো প্রয়াস ছিল না।

তবে এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘তাহলে তো পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হলো। গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা কি কেবল ওই কয়জনকেই চেনেন? সাবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এখানে সবাই বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার যখন যে ক্রাইটেরিয়াতেই ডাকে না কেন, তাতে বৈষম্যবিরোধী সমন্বয়ক এবং নাগরিক কমিটির বাইরের কাউকে দেখা যায় না। আবার নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব মঙ্গলবার ছাত্র প্রতিনিধি এবং বুধবার  রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কার কার পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, তা প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর কিসের ভিত্তিতে ঠিক করে?’

লক্ষণীয় বিষয় হলো, লিয়াজোঁ কমিটির প্রথম সভায় ৩৪টি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এতে বাম ও মধ্যমপন্থি সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ একাধিক ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠন অংশ নিয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দ্বিতীয় সভা হয় গত ২৫ নভেম্বর। সেখানে উপস্থিত ছিল মাত্র ১৯টি ছাত্র সংগঠন। তাদের সর্বশেষ সভা হয় বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে। এই সভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বামপন্থি সংগঠনগুলোসহ বেশ কিছু ছাত্র সংগঠন অংশ নেয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সভায় উপস্থিত অন্য এক ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতা বলেন, বুধবার রাতের সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হন। তারা এখনো জানেন না তাদের সংগঠনটি কাদের নিয়ে। তারা কি কোনো রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন? এই প্রশ্নের জবাবও তারা দিতে পারেননি। যদি তারা ছাত্র সংগঠন না হয়ে থাকে, তাহলে তাদের ডাকে আমরা আসবো কেন? যদি তারা রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন হয়ে থাকে, তবে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতাকর্মীরা কেন ছিল? তারা তো রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন না।

বুধবারের সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সদস্য সচিব আরিফ সোহেল এবং মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এখানে কোনো ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনকে ডাকেনি। গণঅভ্যুত্থানের যে প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সেটাকে ডেকেছিলেন। সব ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনকে ক্রমানুযায়ী ডাকবেন বলে আমরা জানি। ছাত্র সংগঠন, সুশীল সমাজ সবাইকেই ডাকবেন। ছাত্র সংগঠনগুলোর মূল সংগঠন কিন্তু প্রতিনিয়ত সরকারের সঙ্গে বসছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন না। আমরা গণঅভ্যুত্থানের প্ল্যাটফর্ম।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যুক্ত হচ্ছে ৪ বিষয়

নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যুক্ত হচ্ছে ৪ বিষয়

ইরানে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প

ইরানে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় নিহত ৪

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় নিহত ৪

ইরানের পর 'হামলা বন্ধ করার' ঘোষণা দিলো ইসরায়েলও

ইরানের পর 'হামলা বন্ধ করার' ঘোষণা দিলো ইসরায়েলও

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App