মক ভোটিংয়ে বিশৃঙ্খলা, নতুন করে ভোটগ্রহণ শুরু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০১:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকায় মক ভোটিংয়ের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চারটি বুথে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। তবে শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রটিতে দেখা যায় চরম হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতি।
মক ভোটিংয়ের উদ্দেশ্য ছিল সংসদ ও গণভোট একসঙ্গে দিতে কত সময় লাগে এবং ভোট ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা চিহ্নিত করা। প্রথম ঘণ্টায় বুথগুলোতে যথাক্রমে ২৩, ৩৭, ২৩ ও ২১ জন ভোট দেন, এবং প্রতিজনের গড়ে ভোট দিতে সময় লাগে প্রায় এক মিনিট। ভোটাররা জানান, সংসদ নির্বাচনের ব্যালটে ভোট দেওয়া তুলনামূলক সহজ হলেও গণভোটের ‘হ্যাঁ/না’ ব্যালট বুঝতে তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন।
ভোটার শফিকুল ইসলাম বলেন, গণভোট নিয়ে প্রচারণা খুব বেশি প্রয়োজন। গোলাপি রঙের ব্যালটে কী লেখা আছে তা পড়েই উঠতে পারিনি। ছোট লেখায় খেয়াল করতে পারিনি। টিক আর ক্রসের মধ্যে একটা জায়গায় সিল মেরে দিলাম। ভোটার আবুল কালাম ও হাফিজুর রহমানও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান।
আরো পড়ুন : ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার আশা সিইসির
ভোট শুরুর এক ঘণ্টা পর কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি নিজেই ভোট দিতে একজনের সময় পরিমাপ করা শুরু করেন এবং পুরুষ ও নারী কেন্দ্রের জন্য ২০ জন করে বাছাই করে ভোট গ্রহণ নতুনভাবে শুরু করতে নির্দেশ দেন।
সানাউল্লাহ বলেন, ভোটের লাইনে দাঁড়ানো থেকে ব্যালট দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগে তা জানতে হবে। এই সময় অনুযায়ী ভোটকক্ষ, গোপন কক্ষ এবং কেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। এটি শুধু নাটক করার জন্য নয়—এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হযবরল পরিস্থিতি থাকলে প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব হবে না। তিনি ভোটার ছাড়া অন্যদের সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেন।
মক ভোটিংয়ে ভোটারদের সহায়তায় সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররা সিরিয়াল দেওয়া, তালিকা যাচাই, ব্যালট সরবরাহ এবং সিল–কালির ব্যবস্থা করছেন। ফলে প্রত্যেক ভোটার গড়ে এক মিনিট সময় নিচ্ছেন।
গণভোটের ব্যালটে সংবিধান সংস্কারের চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যেগুলোর বিপরীতে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিতে হবে। পাশাপাশি পৃথক ব্যালটে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী–প্রতীকের তালিকা রয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে সময় গণনা এবং ব্যবস্থাপনায় যেসব বিষয় যুক্ত করতে হবে, তা মূল্যায়ন করা হবে।
শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রটি সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে ওঠে। আগামী নির্বাচনী আয়োজন ও গণভোট ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে এই মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
