পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও ধীরগতি আর সহ্য করা হবে না
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও ধীরগতি আর কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। উন্নয়ন কার্যক্রম এখন আর গতানুগতিক ধারায় চলবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান নিশ্চিত করা, দুর্নীতি হ্রাস এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর সরকার কঠোরভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও ৩১ দফার আলোকে একটি নতুন ‘স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরি করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই দুই বছর মেয়াদি এই কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, উন্নয়ন বাজেট (এডিপি) ব্যয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্প পর্যায়ে দুর্নীতি ও অর্থ অপচয় রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। তাই নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে এখন থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশগত প্রভাব- এই দুই বিষয়কে প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হবে। লক্ষ্য হলো বৈষম্য কমিয়ে একটি ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’ গড়ে তোলা।
তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসকরা ভূমি অধিগ্রহণ, আর্থিক বরাদ্দের সময়সূচি, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কাঠামোর ঘাটতি এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব ও সুপারিশ দিয়েছেন। এসব সমস্যা সমাধানে একটি সুনির্দিষ্ট ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের অর্থের সঠিক ব্যবহার (ভ্যালু ফর মানি) নিশ্চিত করতে আইএমইডিকে (পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহের জন্য পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ (এসআইডি) পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতানুগতিক ধারা আর চলবে না। ২০১৭ সালের প্রকল্প এখনো চলমান থাকা বা বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জনকল্যাণমুখী, সাশ্রয়ী ও সময়াবদ্ধ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে মাঠ প্রশাসনকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
