×

চিত্র বিচিত্র

এপ্রিল ফুলস ডে: যেভাবে শুরু এই রহস্যময় প্রথার

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম

এপ্রিল ফুলস ডে: যেভাবে শুরু এই রহস্যময় প্রথার

ছবি : সংগৃহীত

এপ্রিল মাসের প্রথম দিনটি বিশ্বজুড়ে ‘এপ্রিল ফুলস ডে’ নামে পরিচিত। এ দিনে মানুষ মজা করে পরিচিতজনদের বোকা বানানোর চেষ্টা করে থাকে। কিন্তু কীভাবে এই দিনটি বোকা বানানোর দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো—তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা নেই।

মার্কিন সাময়িকী ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংরেজিভাষী দেশগুলোতে এ দিনটি ব্যাপকভাবে উদ্‌যাপিত হলেও এর সুনির্দিষ্ট সূচনা সময় ইতিহাসবিদদের কাছে এখনও অস্পষ্ট। ধারণা করা হয়, ১৫০০ শতক বা তারও আগে থেকে কোনো না কোনোভাবে এই প্রথা চালু রয়েছে।

এপ্রিল ফুলস ডের উৎপত্তি নিয়ে নানা তত্ত্ব রয়েছে। কেউ বলেন, এর সূচনা মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডে, আবার কারও মতে এর শিকড় আধুনিক ফ্রান্সে। অন্যদের ধারণা, প্রাচীন রোম বা বসন্তকালীন উৎসবগুলোর মধ্যেই এই প্রথার ভিত্তি নিহিত। বিতর্ক থাকলেও দিনটি এখনো রহস্যময় হিসেবেই বিবেচিত।

কেন ১ এপ্রিল? তিনটি প্রধান তত্ত্ব

লোকবিজ্ঞানী স্টিভেন উইনিকের মতে, এই প্রথার ইতিহাস ৬০০ বছরেরও বেশি পুরোনো হতে পারে এবং এর পেছনে তিনটি প্রধান তত্ত্ব রয়েছে- একটি ইংল্যান্ডের, দুটি ফ্রান্সের।

প্রথম তত্ত্বটি আসে ইংরেজ কবি জিওফ্রে চসারের ১৩৯০ সালের “দ্য নান’স প্রিস্ট’স টেল” কবিতা থেকে। এতে একটি মোরগ ও শিয়ালের গল্প রয়েছে, যারা একে অপরকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে। কবিতায় বলা হয়েছে ঘটনাটি মার্চের শুরু থেকে ৩২ দিন পরে ঘটেছিল—যা ১ এপ্রিল নির্দেশ করে। তবে গবেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, মূল পাণ্ডুলিপিতে ভুল থাকতে পারে, ফলে এই তত্ত্বটি পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়।

দ্বিতীয় তত্ত্বটি ফ্রান্সভিত্তিক, যেখানে ‘পয়সন দ্য’আভ্রিল’ বা ‘এপ্রিল ফিশ’ নামে একটি প্রথা প্রচলিত। এতে মানুষ গোপনে অন্যের পিঠে কাগজের মাছ লাগিয়ে দেয় এবং ধরা পড়লে ‘এপ্রিল ফিশ!’ বলে হাসাহাসি করে। ১৫০৮ সালে ফরাসি কবি ইলোই ডি’আমেরভালের লেখায় এই শব্দবন্ধের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা এই প্রথার প্রাচীনতার ইঙ্গিত দেয়।

আরো পড়ুন : যুদ্ধে নিরাপত্তার দায়িত্বে শিশুদের ব্যবহার করছে ইরান

তৃতীয় এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় তত্ত্বটি ক্যালেন্ডার পরিবর্তনকে ঘিরে। ১৫৬৪ সালে ফ্রান্সের রাজা নবম চার্লস ‘এডিট অব রুসিলিয়ন’ জারি করে নববর্ষ ১ জানুয়ারিতে নির্ধারণ করেন। এর আগে বিভিন্ন অঞ্চলে এপ্রিলের শুরুতে নববর্ষ পালিত হতো। যারা নতুন নিয়ম মানতে দেরি করেছিল বা পুরোনো অভ্যাস ধরে রেখেছিল, তাদের ‘বোকা’ বলে ঠাট্টা করা হতো। সেখান থেকেই এপ্রিল ফুলস ডে এর সূচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তীতে ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার চালু হলেও বিভ্রান্তি আরো বাড়ে।

প্রাচীন বসন্ত উৎসবের প্রভাব

এই তিনটি তত্ত্ব ছাড়াও ধারণা করা হয়, বসন্তকাল বরাবরই হাসি-ঠাট্টা ও কৌতুকের সময় ছিল। যদিও সরাসরি প্রভাবের প্রমাণ নেই, তবে প্রাচীন ও আধুনিক নানা উৎসবে ছদ্মবেশ ধারণ ও মজার আচরণ লক্ষ্য করা যায়।

প্রাচীন রোমে ‘হিলারিয়া’ নামে একটি উৎসব পালিত হতো বসন্ত বিষুবের পর। এটি উর্বরতার দেবী সিবেলের সম্মানে আয়োজিত হতো। এই উৎসবে মানুষ বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করত এবং সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে আনন্দ করত।

এ ছাড়া হিন্দুদের ‘হোলি’ উৎসব, যেখানে রঙের খেলায় আনন্দ ও মজার পরিবেশ তৈরি হয়, এবং ইরানের ‘সিজদাহ বেদর’ উৎসবেও মজার ছলে মিথ্যা বলা বা কৌতুক করার প্রচলন রয়েছে। এসব উৎসবের সঙ্গে এপ্রিল ফুলস ডের মিল পাওয়া যায়।

রহস্য এখনো অমীমাংসিত

১ এপ্রিল কীভাবে ‘এপ্রিল ফুলস ডে’ হয়ে উঠল, তার নির্দিষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। গবেষক অ্যালান ডান্ডেস উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ গবেষণার পরও এ প্রথার উৎস সম্পর্কে নতুন তথ্য খুবই সীমিত।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—বসন্তের আগমনে মানুষের মধ্যে আনন্দ, হাসি-ঠাট্টা ও হালকা কৌতুকের প্রবণতা চিরকালই ছিল, আর সেই প্রবণতাই আজকের এপ্রিল ফুলস ডে-কে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আগামী সপ্তাহেই তীব্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

থমকে আছে ইরানের সঙ্গে আলোচনা আগামী সপ্তাহেই তীব্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

সাতসকালে ঝুম বৃষ্টিতে ভিজল রাজধানী

সাতসকালে ঝুম বৃষ্টিতে ভিজল রাজধানী

ঢাকাসহ ১৩ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির সতর্কর্তা

ঢাকাসহ ১৩ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির সতর্কর্তা

রাজধানীজুড়ে পুলিশের কড়া নজরদারি

রাজধানীজুড়ে পুলিশের কড়া নজরদারি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App