বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী
সম্মিলিত উদ্যোগে পানিসংকট সমাধান সম্ভব
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সমন্বিত উদ্যোগ নিলে দেশের পানিসংকট দূর করা সম্ভব। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুর এলাকায় চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল পুনঃখনন কার্যক্রম সফল হলে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সহজে নিষ্কাশন করা যাবে এবং বন্যার সময় মানুষ, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল সুরক্ষিত থাকবে। একই সঙ্গে শুকনো মৌসুমে সংরক্ষিত পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই চৌকিরদহ খালটি তার পিতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে খনন করেছিলেন। প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খালগুলো পুনরুদ্ধার করে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। খালের দুই পাশে গাছ লাগানো, মাছ চাষের সুযোগ সৃষ্টি এবং আশপাশে শাকসবজি উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা যেতে পারে। এতে বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে একদিকে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষায় অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। তাই টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার জন্য খাল খনন অত্যন্ত জরুরি।
নিজেকে এলাকার সন্তান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগগুলো সফল করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি ভবিষ্যতেও এলাকায় এসে কাজের অগ্রগতি দেখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে দুপুর ২টার দিকে তিনি নিজ জন্মস্থান বাগবাড়ীতে পৌঁছান। পরে বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর বিকেল ৩টায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।
বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নশিপুরে পৌঁছে চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় খালের দুই পাড়ে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান এবং তিনি হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন।
খাল পুনঃখনন কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টার দিকে তিনি তার পৈতৃক বাড়িতে যান। সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থানের পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকেল ৫টায় বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
