ইউএনও অফিস কর্মকর্তাকে বেঁধে সরকারি কোয়ার্টারে ডাকাতি
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের এক কর্মকর্তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে সরকারি কোয়ার্টারে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। প্রাচীরঘেরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এমন ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শনিবার (২ মে) ভোররাত ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত সরকারি কোয়ার্টারে ইউএনও কার্যালয়ের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মুখে গামছা বাঁধা তিন সদস্যের একটি ডাকাত দল বাসার জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের প্রত্যেকের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল।
তিনি আরও জানান, ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে তার স্ত্রীর গলা থেকে সোনার চেইন, হাতের আংটি ও রুপার নূপুর ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া ঘরে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা এবং দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায় তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, প্রাচীরঘেরা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভেতরে এমন ডাকাতির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদারে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ডাকাত দল চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকারে পাশের কোয়ার্টারের বাসিন্দারা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম জানান, উপজেলা পরিষদের প্রাচীরসংলগ্ন এলাকা থেকে লুট হওয়া দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।
