জবাইয়ের আগেই পশু মারা গেলে কোরবানি আদায় হবে কি?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কারো কোরবানির জন্য কেনা পশু যদি জবাইয়ের আগেই বজ্রপাত, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে মারা যায়, তাহলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি আদায় হবে না। এ ক্ষেত্রে কোরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকলে তাকে অবশ্যই আরেকটি পশু কিনে কোরবানি করতে হবে।
আর যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, তাদের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে পশু কিনে কোরবানি করা বাধ্যতামূলক নয়; কারণ তাদের ওপর আগে থেকেই কোরবানি ওয়াজিব ছিল না।
ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থে বিষয়টি উল্লেখ আছে, যেমন- বাদায়েউস সানায়ে (৪/২১৬) এবং খোলাসাতুল ফাতাওয়া (৪/৩১৯)।
ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজের সঙ্গে কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয় আমি তোমাকে কাওসার দান করেছি। সুতরাং তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো এবং কোরবানি করো। নিশ্চয় তোমার প্রতি শত্রুতা পোষণকারীই নির্বংশ।” (সূরা কাওসার: ১–৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যার কোরবানি করার সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।” (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩১২৩)
মুসলমান নারী-পুরুষ নির্বিশেষে, যার কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাদে অতিরিক্ত সম্পদ নির্দিষ্ট পরিমাণে থাকে—যেমন সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমমূল্য- তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়।
কোরবানির সময় একটি সাধারণ প্রশ্ন হলো- জবাইয়ের আগেই পশু মারা গেলে কি কোরবানি আদায় হবে? শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, এর উত্তর হলো- না, কোরবানি আদায় হবে না।
কারণ কোরবানির পশু অবশ্যই জীবিত অবস্থায় জবাই করতে হয়। জবাইয়ের আগে পশু মারা গেলে সেটি কোরবানির পশু হিসেবে গ্রহণযোগ্য থাকে না। ইসলাম মৃত প্রাণী ভক্ষণকেও হারাম করেছে।
পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদায় মৃত প্রাণী খাওয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই জবাইয়ের আগে কোনো পশু মারা গেলে তা কোরবানির জন্য বৈধ নয়।
ফিকহবিদদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, পশু জবাইয়ের সময় জীবিত ছিল কি না তা বোঝার জন্য কিছু লক্ষণ দেখা হয়। যেমন জবাইয়ের পর রক্ত প্রবাহ এবং শরীরের সামান্য নড়াচড়া বা স্পন্দন।
ইসলামি পরিভাষায় একে ‘ইদতিরাব’ বলা হয়। যদি জবাইয়ের পর প্রাণের সামান্য লক্ষণও দেখা যায় এবং দ্রুত জবাই সম্পন্ন করা হয়, তবে সেই পশু কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য। কিন্তু প্রাণের কোনো লক্ষণ না থাকলে সেটি মৃত হিসেবে গণ্য হবে এবং কোরবানি শুদ্ধ হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ভয়, গরম বা চাপের কারণে অনেক সময় পশুর হঠাৎ মৃত্যু হতে পারে। তাই ইসলাম পশুর প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) জবাইয়ের আগে পশুকে শান্ত রাখা এবং ছুরি ভালোভাবে ধার করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে পশু কম কষ্ট পায়।
সহিহ হাদিসে আরও এসেছে, জবাইয়ের সময় পশুকে কষ্ট না দিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা, ভোঁতা ছুরি ব্যবহার করা বা অমানবিক আচরণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ।
তাই কোরবানির সময় পশুর যত্ন নেওয়া, তাকে শান্ত রাখা এবং জবাইয়ের আগে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কোনো সন্দেহ দেখা দিলে অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতনতা ও দয়া-অনুভূতির মাধ্যমেই কোরবানির এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
