যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের আশ্রয় সংক্রান্ত আবেদনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের আশ্রয় সংক্রান্ত আবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। গত বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সেনাকে গুলি করার ঘটনার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আফগানিস্তান থেকে আসা এক অভিবাসীর গুলিতে আহত দুই সেনার একজন মারা গেছেন, আরেকজন চিকিৎসাধীন। ঘটনার পরই আশ্রয় নীতি নিয়ে নতুন কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে অভিবাসী গ্রহণ বন্ধের ঘোষণা দেন। তবে এবার তা আরো বিস্তৃত রূপ নিলো। বিশ্বের সব দেশের আশ্রয় আবেদন সিদ্ধান্ত কার্যক্রমই বন্ধ করে দেওয়া হলো।
ইউএস সিটিজেন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের (ইউএসসিআইএস) পরিচালক জোসেফ এডলো শুক্রবার এক্স-এ লিখেছেন, সব বিদেশির বিষয়ে নিরাপত্তা যাচাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয় নির্ধারণের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
আরো পড়ুন : চীনের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়াতে জাপানকে পরামর্শ দিলেন ট্রাম্প
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—আশ্রয় সংক্রান্ত কোনো আবেদনেই যেন সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়। এটি সব দেশের আবেদনকারীর ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। তবে আবেদন যাচাই–বাছাইয়ের প্রাথমিক কাজ তারা চালিয়ে যেতে পারবেন, শুধু সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রক্রিয়াই বন্ধ থাকবে।
এদিকে, তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসী নেওয়া বন্ধের ঘোষণা দিলেও ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহল থেকেও ব্যাপক সমালোচনা আসতে পারে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতি পরিবর্তনের নিন্দা জানিয়েছে।
দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন ট্রাম্প। তার প্রশাসন অনেক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার আইন বাতিলের উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিরাপত্তাকেন্দ্রিক এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিবাসী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে মানবাধিকারের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ বলে জানিয়েছেন।
