‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ কীভাবে এলো এই স্লোগান?
হাসান শাব্বির
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১২ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বহুল ব্যবহৃত স্লোগান ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে Facebook–এ রাজনৈতিক নেতা, ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পোস্টে বারবার উঠে আসছে এই শব্দবন্ধ। এর পেছনে মূলত ভাষা, জাতীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চলমান বিতর্কই কাজ করছে।
২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই স্লোগানকে নতুন করে আলোচনায় আনেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাকে যদি মায়ের ভাষা হিসেবে ধারণ করতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব আমাদের ভাষা নয়।’ তার এই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার ঝড় ওঠে।
মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে অনেকেই ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ লিখে পোস্ট দিতে শুরু করেন। তখনই নতুন করে প্রশ্ন ওঠে—এই বহুল আলোচিত স্লোগানটির উৎস কোথায়?
ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ মূলত দক্ষিণ এশিয়ার উপনিবেশবিরোধী রাজনীতি থেকে জন্ম নেওয়া একটি ঐতিহাসিক স্লোগান। স্লোগানের শব্দ দুটির উৎপত্তি আলাদা ভাষা থেকে এসেছে। ইনকিলাব- আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ, যার অর্থ বিপ্লব। আর জিন্দাবাদ ফারসি–উর্দু শব্দ, অর্থ চিরজীবী হোক বা অভিনন্দন জানানো। দুই শব্দ মিলিয়ে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ অর্থ দাঁড়ায়—“বিপ্লব চিরজীবী হোক” বা “বিপ্লবকে অভিনন্দন”।
প্রখ্যাত ভারতীয় ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিব ২০২২ সালে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এ প্রকাশিত এক লেখায় উল্লেখ করেন, ১৯২১ সালে মাওলানা হাসরাত মোহানি প্রথম ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে এটি উপনিবেশবিরোধী বিপ্লবী নেতা ভগত সিং–এর কণ্ঠেও স্থান পায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমের মতে, ‘ইনকিলাব’ মানে বিপ্লব আর ‘জিন্দাবাদ’ মানে অভিনন্দন—অর্থাৎ বিপ্লবকে অভিনন্দন জানানোই এই স্লোগানের মূল ভাব। ফলে টুকুর বক্তব্যের পর ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এখন ভাষা, রাজনীতি ও জাতীয়তাবাদবিষয়ক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা সমাজে ভিন্নমত ও মতবিনিময়কে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
