ঈদের দিন সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ১০:২১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো অর্ধশতাধিক মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এসব দুর্ঘটনায় গোপালগঞ্জে ৫ জন, গাইবান্ধা, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, পটুয়াখালী ও নরসিংদীতে ২ জন করে এবং ফরিদপুর, মাদারীপুর ও নড়াইলে ১ জন করে নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই মটরসাইকেল চালক অথবা আরোহী ছিলেন।
গোপালগঞ্জে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হন। দুর্ঘটনায় আহত হন অন্তত ২৫ জন। আহতদের গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জে শহরের বেদগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ৫ জনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের সমেশ ঢালীর ছেলে শয়ন ঢালী (২০), একই উপজেলার গোলাগ্রামের মাহাবুব শেখের ছেলে সোয়াইব শেখ ও পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামের আবদুল খালেকের মেয়ে খাদিজা খাতুন।
গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পিরোজপুরগামী দোলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর উল্টে যায়। ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলে দুই আরোহী ও বাসের দুই যাত্রী নিহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আহত ৬ বছরের এক শিশুকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পৌরশহরের রাইগ্রাম এলাকায় যাত্রীবাহী বাসচাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী এক ছাত্রলীগ নেতাসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৭ মে) রাত পৌনে ১টার দিকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে এ ঘটনায় গুরুতর আহত দুজনেরই বৃহস্পতিবার (২৮ মে) মৃত্যু হয় বলে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন পলাশবাড়ী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক পৌরশহরের পশ্চিম গোয়ালপাড়া গ্রামের সেরাজুল ইসলামের ছেলে হাসান আলী প্রধান (২৬) ও একই গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক সিদ্দিক আলী (৩৫)। এছাড়া গুরুতর আহত যুবক পলাশবাড়ী পৌর শহরের বাসিন্দা মারুফ প্রধান (১৮)।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, বুধবার রাতে রাইগ্রাম থেকে অটোরিকশায় শহরের দিকে আসছিলেন হাসান ও মারুফ নামে দুই যুবক। রাইগ্রাম মোড়ে চালক অটোরিকশাটি ঘোরানোর সময় ঢাকা থেকে রংপুরগামী একটি বাস তাদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে চালকসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা দ্রুত তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে পর্যায়ক্রমে হাসান ও সিদ্দিকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত মারুফের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার এসআই ফারুক জানান, রমেক হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই যুবকের ময়নাতদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ দুটি তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ময়মনসিংহে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও একজন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সদর উপজেলার আলালপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা হালুয়াঘাটগামী যাত্রীবাহী শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি বাস ওই এলাকায় আসতেই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজি অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হন। গুরুতর আহত হয় আরও একজন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় ২ শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ওই দুই শিশুর মায়েরা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার কানাগাড়ি বাজার এলাকায় দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুরা হলো জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রশিদপুর গ্রামের শামসুল হক ও দুলালী বেগম দম্পতির ছেলে মো. আবদুল্লাহ (৪) এবং দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের বারো আরিয়া গ্রামের আল আমিন ও ফরিদা বেগম দম্পতির মেয়ে আরিফা খাতুন (৪)। দুর্ঘটনায় আহত দুলালী বেগম (২৫) ও ফরিদা বেগম (২০) দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও নিহত শিশুদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঈদ করতে বুধবার রাতে মায়েদের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় দুই শিশু। ভোরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বাস থেকে নেমে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভাদুরিয়া বাজারের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঘোড়াঘাট উপজেলার কানাগাড়ি বাজার এলাকায় মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে অটোরিকশাটি ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে উল্টে যায়।
স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আহত দুই নারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘোড়াঘাট থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দুই শিশুর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে আলিমুজ্জামান মাতুব্বর (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৩ জন। আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সুয়াদী গ্রামের সিসিবিএল তেল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আলিমুজ্জামান ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের উত্তরকান্দি গ্রামের হোসেন মাতুব্বরের ছেলে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ম্যানেজার আবু জাফর জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ ও আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘নিহত আলিমুজ্জামান কোরবানির মাংস নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া মোটরসাইকেল তাকে ওভারটেক করার চেষ্টা করলে দুই মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।’
তিনি আরো জানান, এতে ঘটনাস্থলেই আলিমুজ্জামানের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পটুয়াখালীতে ঈদের নামাজ শেষে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়ে ২ কিশোর নিহত হয়। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা শহরের গ্রামীণ ব্যাংক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন গলাচিপা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামলীবাগ এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী জব্বার হাওলাদারের ছেলে মো. ফয়সাল হাওলাদার (১৬) এবং একই এলাকার ব্যবসায়ী আবুল হোসেন মাতুব্বরের ছেলে তামিম মাতুব্বর (১৬)।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে ঈদের নামাজ পড়ার পর ফয়সাল ও তামিম মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়। বেলা ১১টার দিকে উপজেলা শহরের গ্রামীণ ব্যাংক এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী একটি অটোরিকশার সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তারা মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তামিমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত ফয়সাল এবং অটোরিকশার দুই যাত্রী সোহরাব হোসেন (৫০) ও শরীফকে (২৫) উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে বরিশালে নেওয়ার পথে ফয়সালের মৃত্যু হয়।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ তরুণ নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাজনাব এলাকার ইটাখোলা-মনোহরদী আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু হয়, পরে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অন্যজন।
এ ঘটনায় আহত আরেক তরুণ জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন আছেন।
নিহত দুজন হলেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের আবদুর রব মিয়ার ছেলে রুমান মিয়া (২৬) এবং নরসিংদী সদর উপজেলার শীলমান্দী ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামের শাহ আহাম্মদের ছেলে চান মিয়া (১৯)। আহত আবদুল্লাহ (১৯) একই ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল নিজের মোটরসাইকেলে শেরপুর থেকে নরসিংদীতে ফিরছিলেন রুমান মিয়া। অন্যদিকে বন্ধু আবদুল্লাহর মোটরসাইকেলে চড়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন চান মিয়া। সন্ধ্যায় বাজনাব এলাকায় মোটরসাইকেল দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রুমান মিয়ার মৃত্যু হয়।
শিবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় বালা বলেন, অভিযোগ না থাকায় রুমান মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া চান মিয়ার মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
নড়াইলের লোহাগড়ায় মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়ে দুর্ঘটনায় এক তরুণ নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বেলা তিনটার দিকে উপজেলার আলামুন্সির মোড় এলাকায় বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলের আরেক আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত তরুণ সাব্বির গাজী (১৮) যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের বাবুল গাজীর ছেলে। আহত শওকত হোসেন (১৯) একই গ্রামের রিপন গাজীর ছেলে।
লোহাগড়া থানা-পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাসের চাপায় সফিকুল ইসলাম সফি (৪৭) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে উপজেলার রাজাবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সফিকুল ইসলাম সফি ওই এলাকার জবান মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় কাপড় সেলাইয়ের কাজ করতেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, বিকেলে সফিকুল ইসলাম সফি তার বোনকে কোরবানির গরুর মাংস দিতে বাসা থেকে বের হন। তিনি রাজাবাড়ী প্রাইমারি স্কুল থেকে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার জন্য রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রিকশার অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় চন্দ্রা পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস তাকে চাপা দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মাহবুব মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া, মাদারীপুরের শিবচরের বাস থেকে ছিটকে পড়ে সাত্তার হাওলাদার (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা সেতুসংলগ্ন সীমানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাত্তার হাওলাদারের বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুরে।
শিবচর হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ভাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা প্রচেষ্টা পরিবহনের একটি বাসে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন সাত্তার হাওলাদার। বাসের সামনের দিকে (ইঞ্জিন কভার) বসে ছিলেন তিনি। বাসটি পাঁচ্চর পার হয়ে সীমানা নামক স্থানে গেলে হঠাৎ ব্রেক কষেন চালক। এ সময় সাত্তার ছিটকে বাসের দরজা দিয়ে বাইরে পড়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, বাসটি হঠাৎ জোরে ব্রেক করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খোলা দরজা দিয়ে বাইরে পড়ে গিয়ে লোকটির মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
