জ্বালানি সংকটে সমুদ্রে যেতে পারছে না হাজারো জেলে
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আলীপুর-মহিপুর বন্দরের খাপড়াভাঙ্গা নদীতে নোঙর করে রয়েছে হাজারো জেলে ট্রলার। জ্বালানি তেলের সংকটে এসব ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। তীরে বসে অলস সময় পার করছেন এসব ট্রলারের মাঝি মাল্লারা।
আগামী ৫৮ দিনের মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা সামনে রেখে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন মৎস্যজীবীরা।
মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জেলেরা সাধারণত সাগরে গিয়ে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেকেই ট্রলার নিয়ে সাগরে যেতে পারছেন না। ফলে তাদের পরিবারগুলো পড়েছে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে।
স্থানীয় জেলে সুলতান মাঝি বলেন, এই সময়টা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তেল না থাকায় সাগরে যেতে পারছি না। সামনে আবার ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, খাপড়াভাঙ্গা নদীর দুই ধারে সারি সারি মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে নোঙর করে রয়েছে। অনেক জেলে অলস সময় পার করছেন, কেউবা জাল মেরামত করছেন, কেউ কেউ হতাশা প্রকাশ করছেন। একাধিক জেলে জানান, এই সময়ে মাছ ধরতে না পারলে সারা বছরের আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগে।
এ চিত্র শুধু আলীপুর মহিপুর বন্দর এলাকারই নয়। সমগ্র উপকূল জুড়ে একই চিত্র। জ্বালানি তৈল নিয়ে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা চিন্তায় পড়ে গেছে। এ সংকট কবে নাগাত কাটবে তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না।
জ্বালানি তেল সংকটকে ঘিরে এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে।
জেলেদের দাবি, দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে এবং নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে। তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ সংকটে জেলেদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
