টাকার অভাবে থেমে যাচ্ছে ছোট্ট রকিবুলের চিকিৎসা
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত সাত বছরের শিশু রকিবুল ইসলাম আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৭ লাখ টাকা—যা জোগাড় করতে অসহায় হয়ে পড়েছে তার দরিদ্র পরিবার।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের অটোচালক মাসুদ ও গৃহিণী রাশিদার একমাত্র সন্তান রকিবুল। সে স্থানীয় হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বালিকা মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের দেড় মাসের মাথায় রকিবুলের হৃদযন্ত্রে ছিদ্র, রক্তনালীর জটিলতা ও সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর থেকেই রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে তার চিকিৎসা চলছে।
চার মাস আগে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। সে সময় রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্ত অপসারণ এবং হার্টে বেলুন স্থাপন করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, এটি ছিল মূল অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতিমূলক ধাপ— যা না হলে পরবর্তী অপারেশন আরও জটিল হয়ে উঠতো।
কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরও রকিবুলের অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। বর্তমানে সে শ্বাসকষ্টে ভুগছে, ঠিকমতো খেতে পারে না। সামান্য ঠান্ডা লাগলেই শরীর নীল হয়ে যায়, সঙ্গে দেখা দেয় ঘনঘন সর্দি-কাশি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগামী আগস্টের মধ্যে জরুরি অস্ত্রোপচার না করলে হৃদযন্ত্রের ফুটো আরও বড় হতে পারে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭ লাখ টাকা, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও বাড়তে পারে।
রকিবুলের বাবা মাসুদ বলেন, “ছেলের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে এনজিও থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি। জন্মের পর থেকেই অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন আর সামর্থ্য নেই।”
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা রাশিদা বলেন, “আমার ছেলেকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চাই। আপনারা আমার সন্তানটাকে বাঁচান।”
স্থানীয়রা জানান, অর্থাভাবে অনিশ্চয়তায় পড়েছে রকিবুলের চিকিৎসা। দ্রুত সহায়তা না পেলে ঝুঁকির মুখে পড়বে তার জীবন।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রওশন মন্ডল জানান, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে বিশেষ রোগে আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সহায়তার চেষ্টা করা হবে।
