উৎপাদনে গতি কমলেও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়বে না: জ্বালানি বিভাগ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) লো ফিডে (ধীরগতিতে) চালু থাকলেও জ্বালানি তেল সরবরাহে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইআরএল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত তেল) স্বল্পতার কারণে বর্তমানে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে লো ফিডে ইআরএল চালু থাকলেও বাজারে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত মাসে (মার্চ) নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্রুড অয়েল না পৌঁছানোয় ইআরএলকে বর্তমানে লো ফিডে পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে মার্চ মাসে নির্ধারিত ২ লাখ টন এবং এপ্রিলে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা সম্ভব হয়নি।
আরো পড়ুন : ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে’
এছাড়া সৌদি আরব থেকে মার্চের প্রথম চালানে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল বহনকারী জাহাজটি নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে রাস্তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে এবং হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও দ্বিতীয় চালানের জাহাজটি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্থগিত রয়েছে।
তবে বিকল্প রুটে ১ লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ ২০ এপ্রিল রওনা হয়ে ২ থেকে ৩ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগামী মে মাসে আরো ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল সরবরাহের জন্য সৌদি আরবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি চাহিদা পূরণে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে আরো ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ইআরএল মূলত সৌদি আরব থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল (এএলসি) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মারবান ক্রুড অয়েল আমদানি করে থাকে। এসব অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে দেশীয় জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে প্রতিষ্ঠানটি। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে ইআরএলের। বছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি মাসে সাধারণত এক থেকে দুইটি কার্গো ক্রুড অয়েল আমদানি করে উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়। এর বাইরে দেশের চাহিদার বড় অংশ পরিশোধিত আকারে আমদানি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যবহৃত মোট ডিজেলের প্রায় ১৫ শতাংশ এসেছে ইআরএল থেকে। অকটেন সরবরাহ না করলেও পেট্রলের চাহিদার প্রায় ১২ শতাংশ ইআরএল পূরণ করেছে। পাশাপাশি ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও বিটুমিনের উল্লেখযোগ্য অংশও প্রতিষ্ঠানটি থেকে উৎপাদিত হয়।
জ্বালানি বিভাগ বলেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আপাতত কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করছে। ফলে ইআরএল থেকে উৎপাদন কিছুটা কমলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে এবং কোনো সংকট তৈরি হবে না।
