এনওসি না থাকায় পাকিস্তান থেকে আনা রক সল্টের চালান আটকে দিলো কাস্টমস
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) না থাকায় পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ২৮ মেট্রিক টন রক সল্ট বা বিট লবণের একটি চালান খালাসের অনুমতি দেয়নি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চালানটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তানের ‘পিক মিনারেলস প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে পণ্যটি আমদানি করে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্দা অ্যান্ড জুবায়ের এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’। ২০ ফুট কন্টেইনারে আসা এই চালান খালাসের জন্য গত ৪ মে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে বিল অব এন্ট্রি জমা দেয় সিএন্ডএফ এজেন্ট ‘তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ’।
তবে আমদানি নথির সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এনওসি বা প্রাপ্যতা সনদ সংযুক্ত না থাকায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চালানটি ছাড় দেয়নি।
জাতীয় লবণনীতি-২০২২ অনুযায়ী, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ক্রুড লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয় না। একই সঙ্গে সব ধরনের লবণ আমদানির ক্ষেত্রে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বা প্রাপ্যতা সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্থানীয় লবণ শিল্প সুরক্ষা এবং দেশীয় উৎপাদন রক্ষায় অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।
চালানটিতে মোট ১ হাজার ১২০টি ব্যাগে ২৮ মেট্রিক টন রক সল্ট রয়েছে। কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যের ইনভয়েস মূল্য ৬ হাজার ৪৪০ মার্কিন ডলার। এ চালানের বিপরীতে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম করসহ মোট ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৫৫ টাকা ৯৭ পয়সা রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
চালানটির এলসি ও ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড।
এ বিষয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সিএন্ডএফ এজেন্ট তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবসারও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের এনওসি ছাড়া চালানটি খালাস সম্ভব নয় বলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার তৌহিদা ইসলাম বলেন, জাতীয় লবণনীতি-২০২২ অনুযায়ী সোডিয়াম ক্লোরাইড বা এ ধরনের লবণ আমদানিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এনওসি বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হলে নিয়ম অনুযায়ী চালান খালাসের অনুমতি দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, আগে ইমপোর্ট পারমিটের ভিত্তিতে এসব পণ্য শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ছাড় দেওয়া হলেও গত ২৩ এপ্রিল থেকে নিয়মটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো লবণের চালান খালাস করা হচ্ছে না।
বাংলাদেশে রক সল্ট বা বিট লবণ খাদ্য, আচার, মসলা শিল্প, হারবাল ও ইউনানি ওষুধ, কসমেটিকস এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ‘হিমালয়ান পিংক সল্ট’ নামে পরিচিত এ ধরনের লবণ রেস্টুরেন্ট ও স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের মধ্যেও জনপ্রিয়।
তবে দেশে পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন থাকায় স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় সরকার এ পণ্যের আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, রক সল্ট বা বিট লবণ ২৫১০০৩০ এইচএস কোডের আওতায় আমদানি হয় এবং বর্তমানে এ পণ্যে প্রায় ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে।
