এক বছরে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৯০ শতাংশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের কৃষি খাতে দীর্ঘদিন খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এতে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২৯০ শতাংশ, যা ব্যাংকিং খাত ও কৃষি অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্বল নজরদারি, বেনামি ঋণ বিতরণ এবং বকেয়া ঋণ সময়মতো আদায় না হওয়ায় ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোকে আদায়ে আরও জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। যদিও আগের বছরের তুলনায় চলতি বছরে কৃষি ঋণ বিতরণ কিছুটা বেড়েছে, তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী তা এখনও পিছিয়ে আছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অতীত সময়ে কৃষি খাতেও বিপুল পরিমাণ বেনামি ঋণ বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঋণের একটি বড় অংশ এখন আর ফেরত আসছে না, ফলে তা ধীরে ধীরে খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে এবং পুরো খাতে চাপ তৈরি করছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। গত বছরের মার্চে এ ধরনের ব্যাংকে খেলাপি ছিল ২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের মার্চে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪১৮ কোটি টাকায়- বৃদ্ধির হার প্রায় ২৯৫ শতাংশ।
ইসলামী ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে খেলাপি ঋণ ২৭৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮৮৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ২০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৮৬ কোটি টাকায় উঠেছে।
অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম হলেও ঋণ বেড়েছে ৫৯০ কোটি টাকা থেকে ৭২০ কোটি টাকায়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণের পাশাপাশি বকেয়া ঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছরের মার্চে যেখানে বকেয়া ছিল ১০ হাজার ৯৭ কোটি টাকা, চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকায়- যা ১২৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
একই সময়ে ঋণ আদায় কিছুটা বাড়লেও তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে আদায় না হওয়া ঋণের বড় অংশ ভবিষ্যতে খেলাপিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে, যা কৃষি খাতে আর্থিক চাপ আরও বাড়াতে পারে।
