বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্বাধীনতা পেলে ‘জঙ্গি কারখানা’ হয়- এমন ইঙ্গিত করে এবং স্বাধীনতার নামে নিয়ন্ত্রণের কথা বলে মঙ্গলবার যে বক্তব্য দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট এলায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব)।
বুধবার (৬ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে পুসাব এ নিন্দা জানায়। জানা যায়, শিক্ষামন্ত্রী গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানী ঢাকার বনানীতে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় এ বক্তব্য দেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, মন্ত্রীর এই ঢালাও মন্তব্য লক্ষ লক্ষ সাধারণ শিক্ষার্থীর মেধা, শ্রম এবং সামাজিক মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে শিক্ষা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে আসীন ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও নেতিবাচক তকমা দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এতে তারা আরও জানায়, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম: ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবসহ দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে বুকের রক্ত দিয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। যারা আগামীর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে, তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘জঙ্গি কারখানা’ বলা তাদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবমাননা।
নেতিবাচক প্রভাব: গুটিকয়েক বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে পুঁজি করে পুরো একটি উচ্চশিক্ষা খাতকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শব্দে কলঙ্কিত করা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলবে।
অগণতান্ত্রিক মানসিকতা: শিক্ষার স্বাধীনতাকে শৃঙ্খলিত করার এই প্রচ্ছন্ন হুমকি মুক্তবুদ্ধি চর্চার পরিপন্থী। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের উচ্চশিক্ষার বড় একটি অংশ বহন করছে; তাদের অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো অগ্রহণযোগ্য।
বিজ্ঞপ্তিতে তারা উল্লেখ করেন, আমাদের দাবি- শিক্ষামন্ত্রীকে অনতিবিলম্বে তার এই অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মর্যাদাহানির জন্য তাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। তার এই বক্তব্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য ও স্টিগমা (stigma) তৈরি করবে, যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বক্তব্যের মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর মানহানি করা হয়েছে। তাদের নাগরিক ও সামাজিক অবস্থানের প্রতি সূক্ষ্মভাবে ঘৃণা উৎপাদন করা হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে জানাতে চাই, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অভব্য, অপমানজনক, মানহানিকর, ঘৃণামূলক মন্তব্য করা হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে পুসাব কঠোর জবাব দিতে বাধ্য হবে।
