‘জিয়া পরিষদের নামে ব্যক্তিস্বার্থ বা দোকান খোলা হোক, চাই না’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, জিয়া পরিষদের নামে কোনো ব্যক্তিস্বার্থ বা ‘দোকান’ খোলা হোক এমনটি চান না। তিনি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের গবেষণামূলক কাজে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
জিয়া পরিষদ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, 'বিএনপির অনেক সহযোগী অঙ্গ সংগঠন রয়েছে। আরেকটি সহযোগী সংগঠনের দরকার নেই। আমাদের দরকার জিয়াউর রহমানের ওপর গবেষণা প্রতিষ্ঠান। জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক, চাই না। এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। আমার চাপে জিয়া পরিষদ কয়েকটি বই করেছে। তারা গবেষণামূলক কাজ করুক, সেটি প্রত্যাশা।'
সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'সরকারে আসার পর যেদিকে তাকাই শুধু অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি দেখতে পাই। সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।'
তদবির সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশে নিয়ম হয়েছিল, তদবির ছাড়া কাজ হয় না। এটি ১৫ বছরে হয়েছে। অনেকে ভাইস চ্যান্সেলর হতে তদবির করেছেন এটা দুঃখজনক। এটি সিস্টেমের দোষ। মূলত মেধা ও বুদ্ধিমত্তা ছাড়া সামনে এগোনো যায় না।'
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে বাহাস হচ্ছে। তা ভালো, কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে এগুলো ব্যবহার করা উচিত নয়।' তিনি জানান, 'জুলাই সনদের প্রতিটি জায়গায় আমরা ছিলাম। আমরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি কিছু জায়গায়। আমরা স্বাক্ষরও করেছি। এখন অবলীলায় বলছে, সবটাই করতে হবে। উচ্চকক্ষে পিআরে আমরা একমত হইনি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়েও আমরা একমত হইনি। সবকিছু সংসদের করতে হবে।'
সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির বিরুদ্ধে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, 'সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলে, বিএনপি সংস্কার মানে না। অথচ বিএনপিই সংস্কারের জনক। জিয়াউর রহমান প্রথম সংস্কার এনেছিলেন। তারা মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে। জামায়াত এটা নিয়ে আন্দোলনও করছে। উদ্দেশ্য, বাংলাদেশকে আবারও অস্থিতিশীল করা। আইনমন্ত্রী সংবিধান সংশোধনে কমিটির নাম চেয়েছেন। আশা করি দ্রুত তারা নাম দেবে।'
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারকে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনীতিকে ঠিক করা। এ অবস্থার উত্তরণে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। ফ্যাসিস্ট আমলে ৮০ লাখ কোটি টাকা দেনা রেখে গেছে। ফ্যাসিস্টের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে ফেলে পুনর্গঠন করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।'
ছাত্র রাজনীতি বিষয়ে তিনি বলেন, 'ছাত্র রাজনীতিতে মেধাবীদের যুক্ত করতে হবে। সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে হবে। নাহলে এটি অতীতে অনেক ক্ষতি করেছে, আগামীতেও করবে।'
