×

আন্তর্জাতিক

মার্চে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম আড়াই শতাংশ বেড়েছে

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

মার্চে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম আড়াই শতাংশ বেড়েছে

ছবি: প্রতীকি

ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও বিশ্বের নৌবাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় দেশে দেশে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম; যার বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খাদ্যমূল্যেও।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলেছে, জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় মার্চ মাসে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম আগের মাসের তুলনায় ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সূচক মার্চে ১২৮.৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারির সংশোধিত স্তরের তুলনায় ২.৪ শতাংশ বেশি।

দাম বৃদ্ধির এই ধারা চলছে টানা দুই মাস ধরে। শস্য, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্যতেল এবং চিনিসহ সব প্রধান পণ্যের দামই এ সময়ে বেড়েছে।

বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সূচক অনুযায়ী, মার্চে খাদ্যশস্যের মূল্য সূচক মাসিক ভিত্তিতে ১.৫ শতাংশ বেড়ে ১১০.৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে এবং বার্ষিক ভিত্তিতে বেড়েছে ০.৬ শতাংশ।

ভোজ্যতেলের দাম টানা তৃতীয় মাসের মত বেড়েছে। এ পণ্যের মূল্য সূচক পৌঁছেছে ১৮৩.১ পয়েন্টে, যা গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৫.১ শতাংশ বেশি। আর বার্ষিক হিসাবে মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে ১৩.২ শতাংশ।

এফএও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের দাম ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। পাম তেলের দাম এখন সয়াবিন তেলকেও ছাড়িয়ে গেছে, যার পেছনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের বৃদ্ধির বিষয়টি মূল ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে মাংসের মূল্য সূচক মার্চে গড়ে ১২৭.৭ পয়েন্ট হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১ শতাংশ এবং এক বছর আগের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি।

দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্য সূচক মাসে ১.২ শতাংশ বেড়ে ১২০.৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, তবে এটি ২০২৫ সালের মার্চের স্তরের চেয়ে ১৮.৭ শতাংশের নিচে রয়েছে।

এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়, চিনি বা খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ ছিল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, বিশ্বের শীর্ষ চিনি রপ্তানিকারক দেশ ব্রাজিল হয়ত আখ থেকে চিনি তৈরির বদলে ইথানল উৎপাদনের দিকে ঝুঁকবে।

সংস্থাটি বলছে, চিনির দামের ওপর বাড়তি চাপের আরেকটি কারণ হল মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ফলে বাণিজ্য প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা।

এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। এখন তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে খাদ্যমূল্য দ্রুত বাড়ছে। তবে বৈশ্বিকভাবে পর্যাপ্ত শস্য মজুদ থাকায় পরিস্থিতি এখনো মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে।

তবে ম্যাক্সিমো তোরেরো সতর্ক করে বলেছেন, ইরান সংঘাত যদি ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, তাহলে কৃষকরা উৎপাদনে বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারেন। তারা চাষের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে, কিংবা ফসল পরিবর্তন করতে পারেন।

টাইমলাইন: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইরানে ত্রান গুদামে ড্রোন হামলা

ইরানে ত্রান গুদামে ড্রোন হামলা

সপরিবারে সিনেমা হলে প্রধানমন্ত্রী

সপরিবারে সিনেমা হলে প্রধানমন্ত্রী

‘উৎস থেকে দাম বেড়েছে বলেই এলপিজির দাম বেড়েছে’

‘উৎস থেকে দাম বেড়েছে বলেই এলপিজির দাম বেড়েছে’

টিকাদান ভাঙনের মূল্য: অর্জনের উত্তরাধিকার, নীতিগত বিচ্যুতি এবং শিশুস্বাস্থ্যের ঝুঁকি

টিকাদান ভাঙনের মূল্য: অর্জনের উত্তরাধিকার, নীতিগত বিচ্যুতি এবং শিশুস্বাস্থ্যের ঝুঁকি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App