হামলার ছবি শেয়ার করায় আমিরাতে ব্রিটিশ বিমানকর্মী গ্রেফতার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন হামলার ছবি শেয়ার করার দায়ে এক ব্রিটিশ বিমানকর্মীকে (ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট) গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের খবরাখবর বা ছবি আদান-প্রদানের ওপর কড়াকড়ি আরোপের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নিয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাটি পর্যটন ও ব্যবসার বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের উন্মুক্ত ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণ দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে হওয়া একটি ড্রোন হামলার ক্ষয়ক্ষতির ছবি হোয়াটসঅ্যাপের একটি ব্যক্তিগত গ্রুপে শেয়ার করেছিলেন। সেখানে তিনি সহকর্মীদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ‘বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করা কি এখন নিরাপদ?’
কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে তার ফোন তল্লাশি করে এবং বিতর্কিত সাইবার অপরাধ আইনে তাকে অভিযুক্ত করে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার দুই বছর পর্যন্ত জেল এবং ৫০ হাজার ডলারের (প্রায় ৬০ লাখ টাকা) বেশি জরিমানা হতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠন ডিটেইনড ইন দুবাই-এর তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ছবি বা ভিডিও ধারণ এবং শেয়ার করার দায়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ জন ব্রিটিশ নাগরিক আটক হয়েছেন। তাদের মধ্যে পর্যটক, প্রবাসী এবং বিমান সংস্থার কর্মীরা রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ‘জননিরাপত্তা বিঘ্নিত’ করার মতো কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অপর একটি ঘটনায় ৬০ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ পর্যটককে ড্রোন হামলার দৃশ্য ধারণের জন্য আটক করা হয়েছে। যদিও পুলিশের অনুরোধে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেই ভিডিও মুছে ফেলেছিলেন বলে জানা গেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে দিয়েছেন যে সংকটের সময়ে এই ধরনের তথ্য বা ছবি শেয়ার করলে ‘তাৎক্ষণিক ফৌজদারি জবাবদিহিতা’র মুখোমুখি হতে হবে। তবে সমালোচকদের মতে, এই ধরনের কড়াকড়ি দুবাইয়ের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক আকর্ষণের মূল কারিগর প্রবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।
ডিটেইনড ইন দুবাই-এর প্রধান নির্বাহী রাধা স্টির্লিং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইন্টারনেটে যুদ্ধের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও ঘুরছে। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই মনে করে যে গণমাধ্যমে যা প্রকাশিত হচ্ছে, তা নিয়ে মন্তব্য করা বা শেয়ার করা নিরাপদ। কিন্তু আরব আমিরাতের ক্ষেত্রে এই ধারণা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।’
