ইরাকের জন্য হরমুজ খুলে দিলো ইরান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের পাল্টা জবাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরোধ করে রেখেছে ইরান। তবে চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই নৌপথ দিয়ে ইরাকি জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
ইরানের এই পদক্ষেপকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নিজেদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করার এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন কৌশলের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরাক এখন থেকে এই প্রণালিতে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধের মুখে পড়বে না। তবে ‘শত্রু দেশগুলোর’ জন্য আগের মতোই কঠোর নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে।’
বিবৃতিতে ইরাকের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘দেশটি অতীতে মার্কিন উপস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের প্রতিরোধ সংগ্রাম প্রশংসার দাবি রাখে।’
এদিকে, ইরানের এই সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে এবং যুদ্ধ এড়িয়ে চলার বাগদাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হলো হরমুজ প্রণালি। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এই রণকৌশলগত অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে ইরান। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ‘প্রণালিটি তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ‘শত্রুদের’ জন্য তা বন্ধই থাকবে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল-গ্যাস রপ্তানি বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।’
এ পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘ইরান যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তিতে না আসে বা প্রণালি খুলে না দেয়, তাহলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
তবে ইরান ট্রাম্পের এই আলটিমেটাম প্রত্যাখ্যান করে একে ‘অযৌক্তিক ও ভারসাম্যহীন’ মন্তব্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
