ফের সু চির সাজা কমলো জান্তা সরকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারের জান্তা সরকার গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির কারাদণ্ডের মেয়াদ আবারো কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাধারণ ক্ষমার আওতায় তার মোট সাজার ছয় ভাগের এক ভাগ হ্রাস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সু চির আইনজীবী দলের এক সদস্য এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো জান্তা সরকার সাবেক এই নেত্রীর দণ্ড হ্রাস করল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সু চির ওই আইনজীবী বলেছেন, ‘২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে কারাবন্দি এই নোবেলজয়ীর বর্তমান সাজার মেয়াদ কমে এখন ১৮ বছরের কিছু বেশি।’
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দুর্নীতির অভিযোগ, নির্বাচনে জালিয়াতিতে উসকানি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের মতো বিভিন্ন মামলায় ৮০ বছর বয়সী অং সান সু চিকে মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেয় মিয়ানমার জান্তা। তবে তার সহযোগীরা প্রথম থেকেই এই বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। তাদের মতে, সু চিকে চিরতরে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেই এই দীর্ঘ কারাদণ্ডের ছক সাজানো হয়েছে।
এর আগে সু চির কারাদণ্ডের মেয়াদ কমিয়ে ২৭ বছর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১৭ এপ্রিল মিয়ানমারের নববর্ষ উপলক্ষে সাধারণ ক্ষমার আওতায় সু চি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের সাজা আরও এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হয়। তবে বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে এই গণতন্ত্রপন্থী নেত্রীকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বর্তমানে তাকে ঠিক কোথায় রাখা হয়েছে, সে সম্পর্কেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। দেশটির জান্তা সরকার তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে বন্দি করে রেখেছে। এমনকি এখন পর্যন্ত তার আইনজীবী দল বা পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অং সান সু চির সাজা কমানোর বিষয়ে মিয়ানমারের সেনা সমর্থিত সরকারের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য যে, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং বর্তমানে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার জন্য ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট 'আসিয়ান' (ASEAN) এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জোটের শীর্ষ সম্মেলন থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার পর মিন অং হ্লেইং এখন আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন, যার অংশ হিসেবেই বন্দিদের সাজা কমানোর এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মিন অং বলেছিলেন, ‘সু চির ভালো যত্ন নেওয়া হচ্ছে এবং তার সরকার সু চির ব্যাপারে কিছু ভালো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।’
