পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল যুগের অবসান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এর মাধ্যমে শেষ হলো ৭১ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা ১৫ বছরের মুখ্যমন্ত্রীত্ব। ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসা মমতার তিন মেয়াদের শাসনের অবসান ঘটল আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে)।
গত ৪ মে প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বড় জয় পেয়েছে বিজেপি। দুই শর বেশি আসনে জয়ী হয়ে রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে দলটি। তবে প্রথা অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতেই আজ রাজ্যপাল মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এখন নতুন মন্ত্রিসভা গঠন ও নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এদিকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৪ জন নিহত হয়েছেন। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি) সিদ্ধনাথ গুপ্ত।
ডিজিপি জানান, রাজ্যজুড়ে সহিংসতায় ২০০-এর বেশি মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণের পর ৪ মে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফল প্রকাশের রাত থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ভাঙচুর ও কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। পাল্টা হামলার শিকার হয়েছেন বিজেপি কর্মীরাও। নিহতদের মধ্যে উভয় দলের সমর্থক রয়েছেন। সহিংসতার জন্য দুই দলই পরস্পরকে দোষারোপ করছে।
এরই মধ্যে গতকাল আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সচিব চন্দ্রনাথ রথ। এ ঘটনাকে তৃণমূলের ‘পরিকল্পিত গুপ্তহত্যা’ বলে দাবি করছে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি সমর্থিত দুষ্কৃতকারীরাই এই সহিংসতার জন্য দায়ী।
