স্কুলের খাবারে সাপ, অসুস্থ ১৫০ শিশু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের বিহারের সহরসা জেলার মহিষী ব্লকের বালুয়াহা মিডল স্কুলে মধ্যাহ্নভোজের খাবারে সাপের বাচ্চা পাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫০ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় এক শিক্ষার্থীর থালায় মৃত সাপের বাচ্চা দেখতে পাওয়া যায়। এর আগেই অনেক শিক্ষার্থী খাবার খেয়ে ফেলেছিল। পরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে একে একে বহু শিশু পেটে ব্যথা ও বমির উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার
অসুস্থ শিশুদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ঘটনার পর জেলা প্রশাসক (ডিএম) তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছেন। একই সঙ্গে যে এনজিও স্কুলটিতে খাবার সরবরাহ করে, তাদের রান্নার পরিবেশ ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মিড-ডে মিল প্রকল্পের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিশুদের খাবার পরিবেশনের আগে একজন শিক্ষককে অবশ্যই সেই খাবার পরীক্ষা বা স্বাদ গ্রহণ করতে হয় এবং এ সংক্রান্ত তথ্য একটি নির্দিষ্ট রেজিস্টারে সংরক্ষণ করতে হয়। পাশাপাশি স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির একজন সদস্যকেও নিয়মিত এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, খাবারের পুষ্টিমান বজায় রাখতে রান্নার সময় পাত্র ঢেকে রাখতে হবে এবং পরিবেশনের সময় খাবারের তাপমাত্রা কমপক্ষে ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে হবে। কারণ ৫ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রান্নাঘর ও রান্নার সরঞ্জাম পরিষ্কার রাখার বিষয়েও কড়া নির্দেশনা রয়েছে। শস্য ও ডাল রান্নার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করা, শাকসবজি কাটার আগে ধোয়া এবং রান্নাঘরের মেঝে প্রতিদিন পরিষ্কার রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া রান্নাঘরে ইঁদুর, পাখি বা পোকামাকড় প্রবেশ ঠেকাতে জানালা ও ভেন্টিলেটরে জালি ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে।
রান্নার সঙ্গে জড়িত কর্মীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও কঠোর নিয়ম রয়েছে। কোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি রান্নাঘরে কাজ করতে পারবেন না এবং বছরে অন্তত দুবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। এখন পুরো ঘটনার তদন্তের দিকে নজর রাখছেন অভিভাবকরা।
