মানবতাবিরোধী অপরাধ
ইনুর বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ আজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২৬ এএম
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য আজ উপস্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণও অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। প্যানেলের অন্যান্য সদস্য হলেন, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আরো পড়ুন : মানবতাবিরোধী অপরাধে মাহবুব উল আলম হানিফের বিচার শুরু
এদিকে, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছেন ইনু। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘সো-কলড’ বলে আখ্যা দেন, যা প্রসিকিউশনের মতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। এ কারণে ইনুর আবেদনটি বাতিলের আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। এ বিষয়ে আজই ট্রাইব্যুনালের আদেশ আসতে পারে।
এর আগে, গত ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং আজকের দিনকে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারণ করেন। সেদিন বিচারক আটটি অভিযোগ পড়ে শোনালে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন ইনু। ২৮ অক্টোবর ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন দাবি করে তার অব্যাহতি চান। তবে প্রসিকিউশন জানায়, ১৪ দলীয় জোটের শরিক নেতা হিসেবে দায় এড়াতে পারেন না তিনি।
২৩ অক্টোবর প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর জুলাই–আগস্ট গণহত্যায় সহযোগিতাসহ আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর ইনুকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দী। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই জাসদ নেতা। তবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে কুষ্টিয়ায় নিজের আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
উল্লেখ্য, জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়া শহরে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু মানুষ। এই প্রেক্ষাপটেই ইনুর বিরুদ্ধে মামলার সূত্রপাত। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে উসকানি, ষড়যন্ত্রসহ আটটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। ৩৯ পৃষ্ঠার ফরমাল চার্জে ২০ জন সাক্ষী রাখা হয়েছে, পাশাপাশি তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও প্রমাণ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
