×

লাইফ স্টাইল

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও কেন কাটে না ক্লান্তি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও কেন কাটে না ক্লান্তি

ছবি : সংগৃহীত

পুরো রাত ঘুমানোর পরও অনেক সময় শরীর ক্লান্ত ও অবসন্ন লাগে। অনেকেই মনে করেন এটি কেবল ঘুমের অভাবের কারণেই হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে থাকতে পারে আরো নানা শারীরিক ও মানসিক কারণ। থাইরয়েডের সমস্যা, ভিটামিনের ঘাটতি, স্লিপ অ্যাপনিয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিংবা রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে ঘুমের মান ও দৈনন্দিন জীবনযাপনও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাধারণভাবে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমকে আদর্শ ধরা হয়। অনেকেই এই সময় অনুযায়ী ঘুমালেও সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে ক্লান্ত মনে করেন। অ্যালার্মে ঘুম ভাঙলেও শরীর ভারী লাগে এবং মন ধীর হয়ে থাকে। তখন মনে হয় রাতের ঘুম যেন শরীরকে ঠিকভাবে বিশ্রাম দিতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময়কাল গুরুত্বপূর্ণ হলেও ঘুমের মান এবং শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবস্থাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় ঘুমের পরেও ক্লান্তি থাকা শরীরের গভীর কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যাটি শুধু শোবার ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং শরীরের ভেতরের বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত কারণে এমনটা ঘটে।

অনেকে মনে করেন সাত বা আট ঘণ্টা ঘুমালেই শরীর স্বাভাবিকভাবে বিশ্রাম পায়। কিন্তু চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, অনেক রোগী পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্ত হয়ে জেগে ওঠেন। এর পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে—

থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতা

ঘাড়ে অবস্থিত ছোট প্রজাপতি আকৃতির থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এটি ঠিকভাবে কাজ করে না, যাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়, তখন শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে ক্লান্তি ও অবসাদ দেখা দিতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

শরীরের বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে শক্তির মাত্রা কমে যেতে পারে। থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা হলে অনেক সময় সারাদিন অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও শক্তির অভাব অনুভূত হয়। এতে ওজনের পরিবর্তনও ঘটতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ডায়াবেটিস, হজম ও কিডনি রোগ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, হাইপোথাইরয়েডিজম শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়, ফলে পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি থেকে যেতে পারে।

ভিটামিনের ঘাটতি

শরীরে শক্তি উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান প্রয়োজন। এগুলোর ঘাটতি হলে শরীর খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সমস্যায় পড়ে। বিশেষ করে ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি এবং আয়রনের ঘাটতি থাকলে ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়। এতে শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যেতে পারে।

স্লিপ অ্যাপনিয়া

কখনও সমস্যাটি ঘুমের ধরণেই থাকে। স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি অবস্থা, যেখানে ঘুমের সময় বারবার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। এই বিরতি কয়েক সেকেন্ডের হলেও তা গভীর ও পুনরুদ্ধারমূলক ঘুমে বাধা দেয়। অনেক মানুষই বুঝতে পারেন না যে তারা এই সমস্যায় ভুগছেন।

চাপ ও উদ্বেগ

মানসিক চাপ এবং উদ্বেগও ঘুমের মানকে প্রভাবিত করে। দীর্ঘ সময় ধরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বেশি থাকলে মস্তিষ্ক ঘুমের মধ্যেও সতর্ক অবস্থায় থাকে। ফলে শরীর বিশ্রাম পেলেও মন উদ্বেগ ও উত্তেজনা নিয়ে সক্রিয় থাকে। এর ফলে ঘুম ভাঙা ভাঙা হয় এবং সকালে উঠে ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

খালেদা জিয়ার নামে খালের নামকরণ করলেন এমপি

খালেদা জিয়ার নামে খালের নামকরণ করলেন এমপি

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমানের রানআউট বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো এমসিসি

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমানের রানআউট বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো এমসিসি

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা

মার্কিন সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংস্থা প্রধানের পদত্যাগ

ইরান ইস্যুতে মতবিরোধ মার্কিন সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংস্থা প্রধানের পদত্যাগ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App