জাপা-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষে ভোরের কাগজের সাংবাদিক মারুফ আহত

কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১১:০৭ এএম

আহত দৈনিক ভোরের কাগজের রিপোর্টার মারুফ সরকার। ছবি : ভোরের কাগজ
রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, দৈনিক ভোরের কাগজের রিপোর্টার মারুফ সরকার, বাংলাদেশ টাইমসের রুহুল আমিন শেখ, বার্তা ২৪ এর রিপোর্টার রাজু।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের সময় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত সাংবাদিক মারুফ জানান, জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতা জিএম কাদেরের বক্তব্য নিতে গেলে তার নেতাকর্মীরা উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর আতর্কিত হামলা চালায়। জিএম কাদেরের গাড়িচালক সাংবাদিকদের ওপর গাড়ি ওঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, আমরা তার কাছে বারবার জানতে চেয়েছি তার নেতাকর্মীরা কেন আমাদের ওপর এ ধরণের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটালো সে বিষয়ে আপনার বক্তব্য জানতে চাই। কিন্তু আমাদের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে গাড়িতে ওঠেন।
উপস্থিত আরেক সাংবাদিক অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময় আমাদের ওপর হামলা করা হয়। বারবার কেন সাংবাদিকরাই হামলার শিকার হন সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রাজধানীর কাকরাইলে শুক্রবার বিকেলে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ চলতে থাকে।
এর জেরে সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলে যান সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এর মধ্যেও জাপা ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময় বেধড়ক লাঠিপেটায় মারাত্মক আহত হন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক নুরুল হক নুর। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আহত হন সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক।
আরো পড়ুন : বিজয়নগরে সংঘর্ষ, সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের ব্যাখ্যা
দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাপার কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে গণঅধিকার পরিষদের কর্মসূচি ঘিরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।
এদিকে, গতকাল রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগে বাধ্য হয়।
জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ দুই রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ই কাকরাইল এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একদিকে নুরের কর্মীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জাপার কার্যালয়ের সামনে থেকে পল্টনের দিকে ধাওয়া দিয়েছিল। অন্যদিকে নুর ওই কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরা ধাওয়ার চেষ্টা করলে তারা কার্যালয়ের দিকে ছুটে যান। তখন পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে লাঠিপেটা করে।
গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরা জানান, নুরকে উদ্ধার করে প্রথমে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি আইসিইউতে আছেন।