ইরানে স্কুল-স্পোর্টস হলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২১
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দক্ষিণ ইরানের একটি স্পোর্টস হল ও স্কুলে মার্কিন নবনির্মিত ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ বা পিআরএসএম ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ভলিবল অনুশীলনরত কিশোরীও রয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রিজম হলো মার্কিন সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক সারফেস-টু-সারফেস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ২০১৯ সালে ‘ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস’ (আইএনএফ) চুক্তি বাতিলের চার মাস পর এটি প্রকাশ্যে আসে। পেন্টাগন এখনও এর নির্ভুলতা বা বিস্ফোরকের ক্ষমতা প্রকাশ করেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ৩০০ কিলোমিটার রেঞ্জের পুরনো এটিএসিএমএস-এর স্থলাভিষিক্ত, যা ৫০০ কিলোমিটার দূরত্বে লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জনবহুল এলাকায় আঘাত হানে। নিউইয়র্ক টাইমসের ভিজ্যুয়াল ও ব্যালিস্টিক বিশ্লেষণ অনুসারে ধ্বংসাবশেষ ‘লকহিড মার্টিন’ নির্মিত পিআরএসএম এর সঙ্গে মিলে যায়।
আরো পড়ুন : ট্রাম্পকে রাজি করাতে পাকিস্তানের নেপথ্য কৌশল
লকহিড মার্টিন আরকানসাসের কারখানায় এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে এবং গত ডিসেম্বরে প্রথম ব্যাচ মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়া হয়েছে। পেন্টাগন উৎপাদন চারগুণ বাড়াতে ৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। হামলা হয় হাইমার্স ও এম ২৭০ মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম থেকে।
পেন্টাগন মনে করছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের যুদ্ধ কৌশল পরিবর্তন করবে এবং ভবিষ্যতে সমুদ্র বা চলন্ত লক্ষ্যবস্তুতেও ব্যবহারযোগ্য হবে।
বিশেষজ্ঞরা এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক ও অনৈতিক’ মনে করছেন। স্কুল ও খেলাধুলার মাঠে এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্কুল ও খেলাধুলার মাঠে ২১ নিরীহ মানুষ নিহত হওয়ায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তেহরান ইতোমধ্যে এই হামলার প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
