হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
ফাইল ছবি
শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালিয়ে গেছেন তাঁর স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা। আজ রোববার (১০ মে) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম শিম্পা খাতুন (২৪)। তাঁর শ্বশুরবাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা ইউনিয়নের লাউয়াই গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মহিজুল ইসলামের স্ত্রী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিম্পা খাতুন অসুস্থ এমন দাবি করে তাঁর স্বামী মহিজুল ইসলামসহ পাঁচজন তাঁকে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে কৌশলে মরদেহ রেখে হাসপাতাল ত্যাগ করেন স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে হয়। গতকাল রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টাকার বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এর জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
নিহতের বাবা নায়েব আলী বলেন, “বিয়ের পর থেকেই আমার জামাই বিভিন্নভাবে টাকার জন্য নির্যাতন করত। সে জুয়া খেলত। আমি মেয়েকে ১৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোবাইল কিনে দিয়েছিলাম, সেটিও বিক্রি করে আবার টাকা চাইত। টাকা না দেওয়ায় আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। মেয়ের মাথায় আঘাত করেছে, মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখেছি।” তিনি আরও বলেন, “জামাইয়ের ইনকামের জন্য আমি একটি ভ্যানগাড়ি কিনে দিয়েছি, বসতভিটা কিনে বাড়িও করে দিয়েছি।”
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া চলছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র বলেন, হাসপাতালে একজন নারীকে আনা হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্বামীসহ স্বজনরা মরদেহ রেখে পালিয়ে যান। পুলিশ সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মালিহা নুঝাত বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছিল। পরে ইসিজি রিপোর্টেও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে স্বজনরা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। পুলিশকে খবর দেওয়ার আগেই তাঁরা হাসপাতাল থেকে চলে যান।
