নির্বাচনের পরপরই দেশ ছাড়তে পারেন আইজিপি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বাহারুল আলম। ছবি : সংগৃহীত
পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বাহারুল আলম সম্প্রতি তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট (লাল পাসপোর্ট) সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্ট নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি জমা দিয়ে সরকারি অনুমোদন (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) প্রাপ্তির জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে প্রকাশিত এই খবরে প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তার চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ এখনও ৮ মাস বাকি থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি এখনই সাধারণ পাসপোর্ট নিতে চাচ্ছেন, তা নিয়ে সচিবালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে নানা আলোচনা চলছে।
পুলিশ ভেরিফিকেশন ও দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ছাড়পত্র ছাড়া কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সহজে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পূর্বের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, সাবেক সরকারের সময়ে ইস্যুকৃত কূটনৈতিক পাসপোর্টের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ বজায় থাকবে, তবে বর্তমান সরকারের কর্মকর্তাদের জন্য শিথিল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন : সাধারণ পাসপোর্ট নিচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা
সূত্র জানায়, বাহারুল আলম নিজেই ৩ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর চিঠি জমা দিয়ে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের জন্য অনুমোদন চেয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “আমি বাহারুল আলম, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, আমার ব্যবহৃত কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণপূর্বক সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। অনাপত্তি সনদ প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।”
রম্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দুর্বল পুলিশ বাহিনীকে নেতৃত্ব দিতে তিনি ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর চুক্তিভিত্তিক আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পান। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। যদিও ৭ আগস্ট অতিরিক্ত আইজিপি মইনুল ইসলাম ৩০তম আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে তিনি পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।
নির্বাচনের আগে তার পাসপোর্ট সমর্পণের খবরের কারণে পুলিশ প্রশাসনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা মনে করছেন, নির্বাচনের পরপরই আইজিপি বাহারুল আলম দেশ ছাড়তে পারেন। যদিও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে নির্বাচনের আগে চুক্তির মেয়াদ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাহারুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নের জবাবে শুধু লিখেছেন, “কি প্রশ্ন উঠেছে।” এরপর আর কোনো মন্তব্য প্রদান করেননি।
