বরিশালের ৬টি আসনে ভোটের চিত্র
হাতপাখা-দাঁড়িপাল্লার চাপে বিএনপি
এম.কে. রানা, বরিশাল থেকে
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের ৬টি আসনেই জনসংযোগ চালাচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত জোট ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনী মাঠও তেমনি বদলাচ্ছে। কোনো আসনে বিএনপির সামনে নিজ দলের বিদ্রোহী, কোনোটিতে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতা, কোনোটিতে জামায়াত জোটের শক্তিশালী প্রার্থীর নাম আলোচনায় আসছে। বরিশালে অনেকটা হাতপাখা-দাঁড়িপাল্লার চাপে পড়েছে বিএনপি প্রার্থ ীরা।
তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশাল সফরের পর দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুধুমাত্র বরিশালের ৬টি আসনেই নয়, বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনেই ভোটের হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভক্তি ভুলে গিয়ে এখন বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করছেন। বিভাগীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি একাধিক আসনে আগে যে গ্রুপিং ও সমন্বয়হীনতা ছিল, তা অনেকাংশে কমে এসেছে। নেতাকর্মীরা নিয়মিত বৈঠক, উঠান সভা, গণসংযোগ ও প্রচারণা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশ নিচ্ছেন। এরপরও বরিশাল সদর-৫ আসনসহ অন্যান্য আসনগুলোতে নির্বাচনে সমানে সমান টক্কর দেওয়ার চেষ্টা করবে ইসলামী দলসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এমনটি মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। অবশ্য নির্বাচনে না থেকেও ভোটের মাঠে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে আওয়ামী লীগের ভোটাররা বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রোববার জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বরিশাল ক্যাম্প কমান্ডার মেজর সৈকত বলেন, সেনাবাহিনী কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। সেনাবাহিনীর একমাত্র লক্ষ্য সংবিধান অনুসরন করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাতে সকলে নিশ্চিন্তে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ৫ জন, বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে ৮ জন, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ৬ জন, বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ৫ জন, বরিশাল-৫ (বরিশাল সদর) আসনে ৬ জন এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ৬ জন।
বরিশাল-১:
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সদ্য প্রয়াত সাবেক চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দীন স্বপন। নির্বাচনী মাঠে তিনি ব্যাপক জনসংযোগ চালাচ্ছেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আগৈলঝাড়া উপজেলা ও গৌরনদী উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ভোট চাইছেন স্বপন। তবে এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দীন স্বপনের বিজয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ দল বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় ভোটাররা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ ভাগ ভোটই হিন্দু সম্প্রদায়ের।
২০০১ সালের নির্বাচনে জহির উদ্দীন স্বপন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় আগৈলঝাড়া উপজেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য স্বপনকেই অভিযুক্ত করেন অনেকে। অপরদিকে হামলা ও নির্যাতনের সময় সংখ্যালঘুদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান। যে কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার পরও আগৈলঝাড়া উপজেলায় সোবাহানকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন অধিকাংশ সংখ্যালঘু। এছাড়া গৌরনদী উপজেলায়ও সোবাহানের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে জানান স্থানীয় ভোটাররা। ফলে স্বপনের বিজয় রথ থামিয়ে দিয়ে চমক দেখাতে পারেন সোবাহান- এমনটা মনে করছেন অনেকেই।
এ আসনে জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী কামরুল ইসলাম খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাসেল সরদার ও জাতীয় পার্টির সেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলীও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তারাও যে যার মতো জনসংযোগ চালাচ্ছেন।
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ২০০ জন। এ আসনে মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৪৬ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫৪ জন।
বরিশাল-২:
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সংসদীয় আসনে প্রার্থীর ছড়াছড়ি। আসনটিতে বিএনপির এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু, জামায়াতের আব্দুল মান্নান, জাতীয় পার্টির (জেপি) আ. হক, জাতীয় পার্টির (জাপা) এম এ জলিল, খেলাফত মজলিসের মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নেছার উদ্দীন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের মো. তারিকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ এবং এনপিপির সাহেব আলী।
এ আসনে মূলত বিএনপির বিপরীতে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকলেও আসনটিতে আওয়ামী লীগের শূন্য মাঠে বিএনপির শরফুদ্দীন সান্টুর জয়ের হিসাব জটিল করে তুলেছে নিজ দলের একদল নেতা-কর্মী। বানারীপাড়া উপজেলার সহসভাপতি গোলাম মাহবুব ও পৌর কৃষক দলের আ. গাফফার হোসেনসহ কয়েকশ’ নেতা-কর্মী গত ৩০ জানুয়ারি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পরপরই তাঁরা জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের জন্য ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন। অপরদিকে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত দুই কেন্দ্রীয়সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু ও সাবেক ছাত্রদল নেতা দুলাল হোসেনকে এ পর্যন্ত এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রমে দেখা যায়নি। ফলে এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপি প্রার্থী এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু ও জামায়াত প্রার্থী আব্দুল মান্নানের মনে করছেন কেউ কেউ। অবশ্য বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু নির্বাচনী এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে এবং অসহায় মানুষের সহায়তায় ব্যাপক সুনাম রয়েছে। যে কারণে ভোটারদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সংসদীয় আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৬১ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪৬ জন।
বরিশাল-৩
বরিশাল-৩ ( বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিতে ধারাবাহিকভাবে কোন দলের প্রার্থীই বিজয়ী হননি। এর আগে এ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ওয়াকার্স পার্টির প্রার্থী একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে বর্তমানে বিএনপির ব্যাপক সমর্থন থাকলেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন একজন পরিচিত ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে ‘মুলাদী-বাবুগঞ্জ বিএনপির ঘাঁটি’- এ ধারণার ওপর ভর করে দলটির প্রার্থিতা ও প্রচারণা কিছুটা ধীরগতিতে শুরু হয়। প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বিলম্ব, দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং প্রার্থীর শারীরিক অসুস্থতা- সব মিলিয়ে শুরুতে মাঠে সক্রিয়তা কম ছিল তাদের। এর মধ্যে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ: ছত্তার খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করে প্রচারণা শুরু করলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি সরে গিয়ে জয়নুল আবেদীনের পক্ষে মাঠে নামেন।
আসনটিতে জাতীয় পার্টির (জাপা) তিনবারের সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু (লাঙল)। কারাবন্দী টিপুর জন্য গণসংযোগ করছেন তাঁর মেয়ে। জাপার কেন্দ্রীয় অতিরিক্ত যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, মুক্ত টিপুর চেয়ে কারাবন্দী টিপু বেশি শক্তিশালী।
এদিকে এ আসনে এবি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও স্বল্প সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তিনি। উচ্চশিতি, স্পষ্টভাষী ও সক্রিয় এই তরুণ নেতা নদীভাঙন রোধ, মিরগঞ্জ সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়া, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় বক্তব্য ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতা তার পে ইতিবাচক জনমত তৈরি করেছেন। ১১ দলীয় রাজনৈতিক সমঝোতায় জামায়াতে ইসলামী এবি পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ায় ভোটের মাঠে নতুন গতি এসেছে। জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর প্রকাশ্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদের পক্ষে গণসংযোগে নামায় দলীয় কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা ফিরে আসে। জামায়াতের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর ভর করে ঈগল প্রতীক শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেকরা। এ আসনে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদ ইয়ামিন এইচ এম ফারদিন, জাতীয় পার্টির ফকরুল আহসান, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বাসদের মো. আজমুল হাসান জিহাদ। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, সব হিসাব-নিকাশের চূড়ান্ত জবাব দেবেন ভোটের দিন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবেদীনের সঙ্গে জাতীয় পার্টির মো. গোলাম কিবরিয়া টিপু ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূইয়ার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৩২ হাজার ১০১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯২৭ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৭২ জন।
বরিশাল-৪
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব আহসানকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে আছেন অপর মনোনয়ন প্রত্যাশি কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদের সমর্থকরা। ২০০৮ সালে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপির একাংশের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। ফলে এ আসনে বিএনপির বিভাজন দলীয় প্রার্থীর জন্য অনেকটা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে।
এ আসনটিতে জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল জব্বার অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাসদের আব্দুস সালাম (খোকন), ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ এছাহাক মো. আবুল খায়ের এবং মুক্তি জোটের আব্দুল জলিল এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) সংসদীয় আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ১৭হাজার ৯৩৫ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৩৭ জন।
বরিশাল-৫
বরিশাল-৫ আসন জেলায় সবচেয়ে মর্যাদার আসন হিসেবেই ধরা হয়। বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (হাতপাখা)। তবে ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বের হয়ে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর বিএনপির প্রার্থী ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও তাতে ভাটা পড়ে জামায়াতের প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায়। যদিও হাতপাখার পক্ষে এখন পর্যন্ত কোন কার্যক্রম চালাতে দেখা যায়নি তাদের। অপরদিকে বিএনপির দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত প্রায় সব প্রার্থীই সরোয়ারকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। তবে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেক নেতাই নাখোশ ছিলেন সরোয়ারের ওপর। দলের স্বার্থে সরোয়ারের সমর্থনে নির্বাচনি মাঠে থাকলেও তাদের সমর্থকরা মাঠে নামেননি। এদিকে বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিন এখনো সরোয়ারের পক্ষে প্রচারে নামেননি। ফলে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখনো রয়েই গেছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন দলের প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর এর সুফল নিতে মরিয়া বিরোধীদলীয় প্রার্থীরা।
এদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বিগত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে যুক্ত হচ্ছে চরমোনাই ইউনিয়নসহ উপজেলার অন্যান্য ১০টি ইউনিয়ন। এসব এলাকায় বিএনপির ভোটের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের ভোটার সংখ্যা নেহাত কম নয়। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর বড় ভরসা জামায়াতের ভোট ব্যাংক। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভোটারদেরও নিজেদের বলয়ে আনতে পারবেন বলে প্রত্যাশা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর। একইভাবে সংখ্যালঘু ভোটাররা নিজেদের জান, মাল ও নিরাপত্তার স্বার্থে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে ভোট দেবেন বলে দাবি দলটির নেতাদের।
বরিশাল নগরীসহ সদর উপজেলার গ্রামগঞ্জে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের দুই প্রার্থীর নাম। অনেকের মতে, এই আসনে হাতপাখার বাতাসে দুলছে ধানের শীষ! নির্বাচনে এ দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াই হবে বলে মনে করছেন অনেক ভোটার। তবে আওয়ামী লীগের ভোটাররা ভোট দিতে গেলে পাল্টে যেতে পারে সব হিসাব। যে প্রার্থী আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিজের পক্ষে নিতে পারবেন, তিনিই হবেন এ আসনের এমপি।
এই আসনে ১৯৯১ সালে প্রথমবার উপনির্বাচনে জয়লাভের পর ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয়বার উপনির্বাচনেই জয়লাভ করেছিলেন বিএনপির মজিবুর রহমান সারোয়ার। এরপর জিতেছেন ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে। তবে এবার বেশ ভাল রকম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী।
বরিশাল-৫ (সদর ও মহানগর) আসনে সর্বাধিক মোট ভোটার রয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৩ জন। তবে, অন্যান্য আসনে পুরুষ ও মহিলা ভোটের অনেকটা ব্যাবধান থাকলেও এ আসনে পুরুষ ও মহিলা ভোট প্রায় সমানে সমান। এখানে পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৬৭৫ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৬১৯ জন।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ)
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি হলেন ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম ও জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মো. মাহমুদুন্নবী। এ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আব্দুল কুদ্দুস, গণ অধিকার পরিষদের মো. সালাউদ্দীন মিঞা এবং স্বতন্ত্র মো. কামরুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনে বিএনপি-আওয়ামী লীগের পরে জাতীয় পার্টিরও উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তাদের কোনো প্রার্থী নেই। স্থানীয় অনেক ভোটারের বিশ্বাস, জাতীয় পার্টির সমর্থকদের একটি অংশের ভোট পেতে পারেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনেরও কিছু ভোট জামায়াতের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। শেষ পর্যন্ত এই আসনে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের আভাস দিয়েছেন তারা।
বরিশাল ৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ২০ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৩৭ জন।
