অর্থ সংকটে পেছাচ্ছে নতুন পে স্কেল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
ছবি: পে স্কেল
অর্থনৈতিক চাপে নতুন জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন পিছিয়ে যেতে পারে বলে জানা গেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত এই বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়া নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সরকারি সূত্র বলছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি ছাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হওয়ায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়েছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে পে স্কেলের জন্য সংরক্ষিত ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রায় পুরো অর্থই ইতিমধ্যে অন্য খাতে ব্যয় হয়েছে। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ২৪ হাজার কোটি টাকা জ্বালানি খাতের ভর্তুকিতে এবং কৃষকদের ঋণ সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা। ফলে সংরক্ষিত অর্থের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৯৬১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা অবশিষ্ট রয়েছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিপুল ব্যয় সাপেক্ষ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা বাস্তবসম্মত নয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ সরকারের আর্থিক পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলছে।
এদিকে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে হতাশা দেখা দিলেও তারা আশা করছেন, অন্তত আংশিক কোনো সমন্বয় করা হলে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। তবে আপাতত নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে ইতিবাচক খবর পাওয়া কঠিন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আরো পড়ুন:
নতুন পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী মোট ২০টি গ্রেডে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১:৯.৪। বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২১ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের প্রধান করা হয় সাবেক অর্থ সচিব কির আহমেদ খানকে। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল এবং চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তারা তাদের সুপারিশ জমা দেয়।
