হাওরের বাঁধ ভেঙে ৯ হাজার হেক্টর ধান পানির নিচে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের ‘দেখার হাওরে’ আকস্মিক বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি ঢুকে পড়ায় শত শত একর জমির আধপাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে হাওরের প্রায় ৯ হাজার হেক্টর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিশাল এই হাওরের ‘গুজাউনি বেড়িবাঁধ’ হঠাৎ ভেঙে প্রবল বেগে হু-হু শব্দে পানি ঢুকতে শুরু করে। এসময় স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় ভাঙন ঠেকানো গেলেও যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর বোরো ধানের আবাদ তলিয়ে যেতে পারে আশঙ্কা করছেন স্থানীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে ‘দেখার হাওরে’ আকস্মিক বাঁধ ভেঙে হু হু শব্দে পানি ঢুকতে শুরু করে। খবর পেয়ে আশপাশের গ্রামের কৃষকরা বাঁধে ছুটে যান। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তারা সেখানে বাঁশ কুপে, মাঠির বস্তা ফেলে ভাঙন অংশ বন্ধ করতে সক্ষম হন। এর আগেই প্রায় দু’ঘণ্টা ভাঙন অংশ দিয়ে পানি ঢুকে বেশ কিছু নিচু জমি ডুবে যায়।
কৃষকদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হাওরের সবচেয়ে বড় বাঁধ উতারিয়া এখন তাদের গলার কাঁটা। এই বাঁধের কারণে গেল কয়েকদিনের বৃষ্টিতে দরিয়াবাজ অংশের ফসল ডুবে গেছে। শনিবার হাওরের গুজাউনি বাঁধ ভেঙে আরেক অংশ (মেলাউনি হাওর) ডুবতে থাকে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, যে বাঁধটি ভেঙেছে সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ডেও ফসল রক্ষা বাঁধের আওতাভুক্ত নয়। বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় বিভিন্নস্থানে বাঁধ কাটার খবর পাওয়া গেছে। এই বাঁধের বিষয়ে কৃষকদের পক্ষ থেকে আগে থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। আগে থেকে জানা গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো।
এদিকে কৃষকের চেষ্টায় আপাতত বাঁধের ভাঙন ঠেকানো গেলেও একাংশে জলাবদ্ধতার যে পরিমাণ পানি আটকা আছে, তাতে অন্য অংশ রক্ষা করা কঠিন জানিয়েছেন কৃষকরা।
হাওরপাড়ের আস্তমা ও গোবিন্দপুরের কৃষক কে এম ফখরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, আমিরুল ইসলাম ও রেনু মিয়া জানান, শনিবার সকালের দিকে দেখার হাওরের মাঝখানে গুজাউনি বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু হয় হাওরে। এসময় কৃষকরা চিৎকারে বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজারো কৃষক বাঁশ, টুকরি, কোদাল নিয়ে ভাঙনস্থলে এসে বাঁধ ঠেকানোর চেষ্টায় নামেন। প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় বাঁধের ভাঙন রোধ হয়।
