×

জাতীয়

চৈত্র সংক্রান্তি আজ, পুরনোকে বিদায় জানিয়ে নব সূচনার আহ্বান

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৬ এএম

চৈত্র সংক্রান্তি আজ, পুরনোকে বিদায় জানিয়ে নব সূচনার আহ্বান

ছবি : সংগৃহীত

ঋতুচক্রের চিরন্তন নিয়মে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের অতলে হারিয়ে যেতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের প্রখর রোদে, শুকনো পাতার মৃদু শব্দ যেন বিদায়ের এক নীরব সুর তোলে। সেই সুরে লুকিয়ে থাকে নতুনের আগমনী বার্তা, নবজাগরণের এক অদৃশ্য অঙ্গীকার। এমনই এক আবেগঘন সন্ধিক্ষণে এসে উপস্থিত হয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি, যা বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের গভীর প্রতীক।

আজ বাংলা সর শেষ দিন, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এটি শুধু একটি বছরের সমাপ্তি নয় বরং এক বছরের ক্লান্তি, গ্লানি ও জীর্ণতাকে ঝেড়ে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন আশায়, নতুন উদ্যমে জীবনকে আবার শুরু করার অনুপ্রেরণা দেয় এই দিনটি। তাই চৈত্র সংক্রান্তি কেবল বিদায়ের নয়, বরং নতুন করে শুরু করারও এক নীরব অঙ্গীকার।

চৈত্র সংক্রান্তির আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে ভিন্নতা থাকলেও এর মূল সুর একই, ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। যুগের পর যুগ ধরে বাঙালির জীবন, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তা সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সার্বজনীনতা। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী উৎসব আয়োজন করে, যা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির বর্ণাঢ্য প্রকাশ।

আরো পড়ুন : পহেলা বৈশাখে ‘মঙ্গল’ নামেই ধানমন্ডিতে শোভাযাত্রা

গ্রামবাংলায় চৈত্র সংক্রান্তির আবহ আরো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পুরনো বছরের দুঃখ-বেদনা ভুলে নতুন বছরকে বরণ করার প্রস্তুতিতে মুখর থাকে জনপদ। ব্যবসায়ীদের মধ্যে পুরনো হিসাব চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা রয়েছে, তা নতুন সূচনারই প্রতীক।

খাদ্যসংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে আলাদা গুরুত্ব। আমিষ পরিহার করে নিরামিষ খাবার গ্রহণের প্রথা আজও প্রচলিত। কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্না করা হয়, যা প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। আবার কোথাও ছাতু খাওয়ার রীতি রয়েছে। চৈত্র মাসে রোগবালাই থেকে রক্ষার জন্য তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে প্রথা তা এক প্রাচীন জীবনজ্ঞানকে প্রতিফলিত করে যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দিনটি ধর্মীয় দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ব্রতপালন, শিবপূজা ও নানা ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। মন্দির বা গৃহে পূজা-অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যায় জ্বালানো প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলো, শান্তি ও সমৃদ্ধির এক প্রতীক হয়ে ওঠে।

সময়ের পরিবর্তনে শহুরে জীবনে চৈত্র সংক্রান্তির কিছু রূপ বদলালেও গ্রামীণ ঐতিহ্যের আবহ এখনো অটুট রয়েছে। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।

এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হবে। এরই অংশ হিসেবে বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা উৎসবের আবহকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলবে। উন্মুক্ত মঞ্চে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করবে।

অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় থাকবে জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠসহ বিভিন্ন লোকসংগীত পরিবেশনা, যা বাংলার লোকজ ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর গান ও নৃত্য এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’। গ্রামীণ জীবনের চিরায়ত রূপকথার আবেশে দর্শকদের আবিষ্ট করবে এমনটাই আশা আয়োজকদের।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সাবেক ক্লাবের মালিক হচ্ছেন সার্জিও রামোস

সাবেক ক্লাবের মালিক হচ্ছেন সার্জিও রামোস

অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

‘গণভোটের রায় না মানলে সংকটে পড়বে দেশ’

শিশির মনির ‘গণভোটের রায় না মানলে সংকটে পড়বে দেশ’

২১ ঘণ্টার বৈঠকে যে কারণে ১২ বার ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন ভ্যান্স

২১ ঘণ্টার বৈঠকে যে কারণে ১২ বার ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন ভ্যান্স

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App