ক্রুড অয়েল সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির একটি ইউনিট বন্ধ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ক্রুড অয়েলের জাহাজ আটকে থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে এ ইউনিট বন্ধ করা হয়।
রিফাইনারির সচল বাকি চারটি ইউনিট হচ্ছে- এসফল্টিক বিটুমিন প্ল্যান্ট, ভিসব্রেকার ইউনিট, ক্যাটালাইটিক রিফরমিং ইউনিট, কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট।
ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ বেশি।
প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়। এলপিজি, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল ও ফার্নেসসহ ১৬ ধরনের তেল জাতীয় পণ্য উৎপাদন করে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে।
অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করলে জ্বালানির দাম কম পড়ে, প্রায় ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য পাওয়া যায় এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হয়। তাই সরকার বিকল্প উৎস থেকে ক্রুড অয়েল আমদানির জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
সূত্র জানায়, সর্বশেষ মালয়েশিয়া থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির একটি উদ্যোগ নেওয়ায় গতি কমিয়ে সচল রাখার চেষ্টা করেছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা জামানত (পিজি) জমা না দেওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ইতোমধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিংয়ের (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা ৫ হাজার টন এবং অপরিশোধিত তেলের চারটি ট্যাংকের ডেড স্টকের (মজুত ট্যাংকের তলানিতে জমা তেল) কিছুটা তুলেও রিফাইন করা হয়েছে।
১৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে অপরিশোধিত তেলের কোনো চালান বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়নি। চট্টগ্রামে খালাস হওয়া সর্বশেষ চালানটি সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ জাহাজে করে এসেছিল।
বর্তমানে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল বহনকারী ‘নর্ডিক পোলক্স’ জাহাজটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অপেক্ষমাণ রয়েছে। লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে আরেকটি চালান মে মাসের আগে আসার সম্ভাবনা নেই।
