জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোবাইল নেটওয়ার্কে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট গভীরতর হওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় টাওয়ার পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠছে। অ্যামটব সতর্ক করেছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ চেয়ে বিটিআরসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে অ্যামটব। তাদের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ঘাটতি অব্যাহত থাকলে দেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়বে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরো পড়ুন: ৩ হাজার ডলার দেবে মেটা, কারা পাচ্ছেন এই অফার?
বাড়ছে চাপ
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল টাওয়ার ও ডেটা সেন্টার চালাতে এখন প্রায় পুরোপুরি জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন হচ্ছে। শুধু বিটিএস চালাতেই প্রতিদিন প্রায় ৫২ হাজার লিটার ডিজেল ও ১৯ হাজার লিটার অকটেন লাগে। এর বাইরে ডেটা সেন্টার ও সুইচিং অবকাঠামোর জন্য আরও ২৭ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। একটি ডেটা সেন্টার সচল রাখতে ঘণ্টায় ৫০০ থেকে ৬০০ লিটার জ্বালানি খরচ হচ্ছে।
অপারেটররা বলছে, স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়া এবং পরিবহন জটিলতার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ফিডারে টেলিকম অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার না দেওয়ায় সেবা সচল রাখা ব্যাহত হচ্ছে। ঝড় ও দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে।
নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের আশঙ্কা
এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রথমে গ্রামীণ এলাকায় নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়বে এবং পরে শহরাঞ্চলেও কল ড্রপ, ইন্টারনেট ধীরগতি ও সংযোগ বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডেটা সেন্টার বন্ধ হয়ে গেলে এর প্রভাব দ্রুত পুরো নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়বে, কারণ এখান থেকেই সব ধরনের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
জনজীবনে বড় প্রভাবের শঙ্কা
নেটওয়ার্ক বিপর্যয় ঘটলে জরুরি সেবা, ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্স, ই-কমার্স এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। বর্তমানে দেশে সাড়ে ১৮ কোটির বেশি মানুষ মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় থাকায় এর প্রভাব হবে ব্যাপক।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় অ্যামটব ডেটা সেন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, মোবাইল টাওয়ারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ, ডিপো থেকে সরাসরি জ্বালানি সরবরাহ এবং জ্বালানি পরিবহনে বাধাহীন সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
সরকারের অবস্থান
টেলিযোগাযোগ সেবা চালু রাখতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বিটিআরসি। তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার সফল বাস্তবায়নই এখন প্রধান উদ্বেগ।
