আগস্টেই চালু হচ্ছে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
এম.কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণাঞ্চলে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বরিশালে বহুল প্রতীক্ষিত শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকেই হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম হবে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নির্মাণাধীন ক্যান্সার হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, হামের কারণে শিশুদের মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। চিকিৎসার অভাবে আর কোনো শিশুর প্রাণহানি আমরা দেখতে চাই না। তাই জরুরি ভিত্তিতে শিশু হাসপাতালটি চালুর সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, হাসপাতালটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত চাহিদার তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। জুলাই মাসের মধ্যেই অধিকাংশ আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম হাসপাতালে পৌঁছে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে ১০টি নিওনেটাল ভেন্টিলেটর, একটি সিটি স্ক্যান মেশিন, দুটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, একটি পোর্টেবল এক্স-রে, ২০টি মাল্টি প্যারামিটার কার্ডিয়াক মনিটার, ১০টি ফটোথেরাপি মেশিন ও ১০টি ওয়ার্মার স্থাপন করা হবে। কিছু যন্ত্রপাতি টেন্ডারের মাধ্যমে এবং কিছু সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অর্থ সংকট দেখা দিলে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিশেষ বরাদ্দ নেয়া হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ সংকট নিরসনে তাৎক্ষণিকভাবে দুই ধাপে ১০ জন চিকিৎসক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ এবং দ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রমও শুরু হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে নির্মাণাধীন ক্যান্সার হাসপাতালের সিভিল ওয়ার্ক শেষ হতে আরও প্রায় ছয় মাস সময় লাগবে বলে জানান মন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় তিনি রোগীদের খাবারের মান পরীক্ষা করেন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে হাসপাতালের মাত্র ২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। চলতি বছরে বরিশাল বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৪ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
