সেই পঙ্গু আ.লীগ নেতা মারা গেছেন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কারাবন্দি অবস্থায় রাজধানীর ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে শান্ত (৬০) নামের আরেক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি মারা যান।
গত ৪ জানুয়ারি বগুড়া শহরের নারুলী কৃষি ফার্মের সামনে মব সৃষ্টির পর তাকে মারধরে পুলিশে দেওয়া হয়। বগুড়া জেলা কারাগারের জেলার নুরুল মুবীন আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, বগুড়া কারাগারে বন্দি অবস্থায় এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতার মৃত্যু হয়েছে। সবশেষ শাহনূর আলম শান্তর মৃত্যুর আগে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আরও পাঁচজন। মৃত নেতারা হলেন— গাবতলীর দক্ষিণপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক ভুট্টু (৫২), গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল মতিন মিঠু (৬৫), জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত আলম ঝুনু (৫৭), শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুল লতিফ (৬৭) এবং বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রতন (৫৮)।
বগুড়া জেলা কারাগার, পারিবারিক ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শাহনূর আলম শান্ত বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবলাইল গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলী প্রামাণিকের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৮ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা হারানোর পর থেকে তিনি কৃত্রিম পায়ের সাহায্যে চলাচল করতেন এবং তার পায়ে রড বসানো ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশজুড়ে গ্রেফতারি অভিযান ও ‘মব’ জাস্টিসের ঘটনা শুরু হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
গত ৪ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে শাহনূর আলম শান্ত গোপনে বগুড়া শহরের নারুলী কৃষি ফার্ম সংলগ্ন একটি বিউটি পার্লারে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। সেখানে তাকে দেখতে পেয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা আটক করে মারধর করেন। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। ওই দিনই বগুড়া জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনির দায়ের করা একটি নাশকতা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
বগুড়া জেলা কারাগারের জেলার নুরুল মুবীন বলেন, ‘গত ১৭ জানুয়ারি হাজতি শাহনূর আলম শান্তকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেঝেতে হাতকড়া পরিহিত পঙ্গু শান্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মারা যান। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’
শাহনূর আলম শান্ত’র ছোট ভাই ফারুক মিয়া বলেন, ‘তার একমাত্র ভাতিজি বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। নিরপরাধ শান্ত’র মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকার মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাশ গ্রহণের জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সারিয়াকান্দির নিজবলাইল গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই অমিত হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা শাহনূর আলম শান্ত’র এক পা কাটা ও পায়ে রড ঢুকানো আছে। তিনি গত ৪ জানুয়ারি শহরের নারুলী কষি ফার্মের সামনে বিউটি পার্লারে
স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। নিজ এলাকার লোকজন তাকে চিনতে পেরে আটক করে। এরপর তাকে মারপিট করতে থাকে। তখন ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন পেয়ে কর্মকর্তারা তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনি নাশকতা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে হাজতে পাঠানো হয়েছিল।’
