বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর
রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট থেকে
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
ছবি : ভোরের কাগজ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আলী হোসেন (৪৯) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোর রাতে সীমান্তের শূন্য রেখায় এই ঘটনা ঘটে। বিজিবির তীব্র প্রতিবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার পর রাতেই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সীমান্ত ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মধ্যরাতে আলী হোসেনসহ ৭-৮ জনের একটি দল ধবলগুড়ি সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে যান। এ সময় বিএসএফের ১৫৬ ব্যাটালিয়ন টহল দল তাদের বাধা দেয়। বিএসএফ দাবি করেছে, চোরাকারবারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হলে তারা আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আলী হোসেন নিহত হন।
ঘটনার পর সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও হত্যাকাণ্ডের জবাব চাইতে সকাল ১১টায় সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫ এর কাছে সাতগ্রামে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের ‘স্পট পতাকা বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৬১ তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম এবং বিএসএফের পক্ষে ছিলেন ১৫৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট শ্রী সৌরভ।
আরো পড়ুন : পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
বৈঠকে বিজিবি বলেন, সীমান্তে নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালানো আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী এবং এ ধরনের মৃত্যু গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য আনুষ্ঠানিক ‘প্রোটেস্ট নোট’ দেওয়া হয়।
দিনভর আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ৯টায় সীমান্ত পিলার ৮৬৮/৩ এর কাছে বিজিবি ও বিএসএফ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লাশ হস্তান্তর করা হয়। ভারতের মাথাভাঙ্গা থানা পুলিশ বাংলাদেশি পাটগ্রাম থানার কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে, পরে পুলিশ নিহতের বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের হাতে আলী হোসেনের নিথর দেহ তুলে দেয়।
৬১ তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সীমান্তে এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
