সিলেটে ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন, ন্যায্য মূল্য ও ভোক্তার স্বস্তির প্রত্যাশা
জাকারিয়া হোসেন জোসেফ, সিলেট থেকে
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
সিলেটে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘কৃষকের হাট’ চালু হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে “সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য” স্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হওয়া এই হাটে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরাসরি তাদের উৎপাদিত পণ্য ভোক্তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন।
আরো পড়ুন : যুদ্ধবিরতি হলেও জ্বালানি সংকট কাটবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষিপণ্য একাধিক ধাপে হাতবদল হওয়ায় অনেক সময় অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘কৃষকের হাট’ চালুর মাধ্যমে মধ্যবর্তী ধাপ কমে আসবে, ফলে কৃষক ও ভোক্তা উভয়েই উপকৃত হবেন। কৃষক ও ভোক্তার সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ফলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে এবং পণ্যের দামও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।
তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে নির্ধারিত স্থানে এই হাট বসবে এবং প্রশাসনিক নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত খরচের সুযোগ থাকবে না। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর আওতায় আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভারসাম্য রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে যাতে বাজারে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।
কৃষি খাতের উন্নয়নে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও খাল পুনঃখননের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন সকালে নির্ধারিত স্থানে এই হাট পরিচালিত হবে। উদ্যোগটি সফল হলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামে তাজা ও নিরাপদ পণ্য ক্রয়ের সুযোগ পাবেন।
